Posts

Showing posts from January, 2015

ডা. জাকির নায়ক ব্যক্তিটি কেমন?

প্রশ্ন: সম্মানিত মুফতি সাহেবান,দারুল উলুম দেওবন্দ! (আল্লাহ তা’আলা আপনাদেরকে দীর্ঘজীবি করুন) السلام عليكم ورحمة الله আমার জানার বিষয় হল ডা. জাকির নায়ক ব্যক্তিটি কেমন? তার আকিদা-বিশ্বাস কি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাসের সাথে সামাঞ্জস্যশীল? হাদিসের ব্যাখ্যা ও কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে তার মতামত কতটুকু গ্রহণ যোগ্য? এবং ফিকহ সাস্ত্রে তার মাযহাব কি? তিনি কোন ইমামের অনুসারী? আমরা তার আলোচনা শুনে তার উপর আমল করতে পারব কি না? দয়া করে সন্তুষজনক উত্তর দিয়ে ধন্য করবেন। নিবেদক রিয়াজ আহমদ খাঁন আলিয়া প্রিন্টার্স,উত্তর সুইয়া,ইলাহাবাদ,ভারত। মোবাইল-৯৭৯৪৮৬৭৭৭২ দৃষ্টি আর্কষণ: ডাঃ জাকির নায়ক সর্ম্পকে প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন আসছেই,এ প্রশ্নটিও ঐ ধারাবাহিকতার অংশ বিশেষ। এখানে তার আকিদা-বিশ্বাস ও মাযহাব এবং কুরআন-হাদিস সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মূল্যায়ন, বিস্তারিত আলোচনার আবেদন করা হয়েছে। তাই,ডা.জাকির নায়কের আলোচনা ও রচনাকে সামনে রেখে একটি সবিস্তার সমাধান পেশ করা হল। _________________ উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما الجواب وبالله الت...

ইজতেমা 2015 পরিসংখ্যান

ইজতেমার ২য় পর্ব থেকে ৩৩৬৮ টি জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছে। ১) তিন চিল্লা ৩৯৮ টি জামাত। ২) এক চিল্লাা২৪৮৬ টি জামাত। ৩) দিনের ৩৮ টি জামাত। = মোট - ২৯২২ টি জামাত। ৪) আরব ৪৫ টি জামাত। ৫) ইংলিশ ৭০ টি জামাত। ৬) উর্দূ ৪ টি জামাত। ৭) বিদেশ ২৫৫ টি জামাত। ৮) মাস্তুরাত ৭২ টি জামাত। = মোট ৬৫৪ টি জামাত। সর্বমোট ৩৩৬৮ টি জামাত। বিশ্বইজতেমার দুই পর্ব মিলিয়ে- ১ম পর্ব - ৩৭৬৯ টি জামাত। ২য় পর্ব - ৩৩৬৮ টি জামাত। = মোট - ৭১৩৭ টি জামাত। এক একটি জামাতে ১৫ থেকে ২০ জন পর্যন্ত সাথী থাকে। তাহলে সর্বমোট কমপক্ষে ৭,১৩৭*১৫= ১,০৭,০৫৫ জন বা বেশী পক্ষে ৭,১৩৭*২০=১,৪২,৭৪০ জন মানুষ আল্লহর রাস্তায় বের হয়েছে। প্রতি দিন কাকরাইল মসজিদ থেকে চিল্লা ও তিনচিল্লার জামত বের হয়, আর প্রতি মাসে তিন দিনের জামার বের হয় আড়াই লাখের ওপরে। পুরো দুনিয়াতে মসজিদে কবুল হয়েছে এই একমাত্র মেহনত। বিদআতী ভাইদের বলছি, হকের পথে ফিরে আসার এখনও সময় আছে। মালাকুল মউত চলে আসার আগেই যোগ দিন। ঈমান নবায়ন করুন। নতুবা নড়বড়ে ঈমান নিয়া জিহাদে গেলে "দৌড়ের আগে মাইরের পিছে" অবস্থা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। মাঝে মাঝে কিছু...

কি ভূমিকা ছিল কওমী উলামাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে?

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কওমি মাদ্রাসার কয়েক জন ছাত্র হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সর্বশেষ জীবিত খলিফা হাফেজ্জি হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে জিজ্ঞাসা করেছিল, এই যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে এই যুদ্ধটা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ? তখন হাফেজ্জি হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাই উত্তর দিয়েছিলেন- এটা হচ্ছে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ। পাকিস্তানিরা হচ্ছে জালেম আর আমরা বাঙ্গালীরা হচ্ছি মজলুম। হাফেজ্জি হুজুরের এই কথা শুনে অনেক আলেম মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলির একটি বই আছে “আলেম মুক্তিযুদ্ধাদের খোঁজে”এই বইটিতে আপনারা অনেক বড় বড় আলেম যারা দেশের বিভিন্ন ক্বওমী মাদ্রাসা থেকে পাস করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের বীরত্বের কাহিনী পাবেন। কিন্তু ঐ আলেমরা কিন্তু ওলামা লীগ করতো না। তাঁরা শুধু দেশ মাতৃকার টানে ও নির্যাতীত নারীদের কে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর লালসার হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান (রহঃ)। আমীমুল এহসান(রর্হঃ) তিনিও কিন্তু পাকিস্ত...

হযরত মাওলানা সা'দ সাহেব (দা:বা) এর নসিহতের মধ্যে কিছু নসিহত :ইজতেমা 2015

১.আলেম -ওলামাদের সাথে সাক্ষাৎ করাকে নিশ্চিতরূপে ইবাদত মনে কর। ২.এলেম অর্জনের আধুনিক উপায় (যেমন নিজে নিজে বই পড়ে,ইন্টারনেটের মাধ্যমে, কম্পিউটারের মাধ্যমে ইত্যাদি) এর মাধ্যমে এলেম অর্জনের মাধ্যম মনে করে আলেমদের সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হইও না,এলম শিক্ষার পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রেখ না। ৩.মাদ্রাসাকে এলেমের দূর্গ মনে কর।এখানে বেশি বেশি সাহায্য সহযোগিতা কর।এখানে বেশি বেশি যাতায়াত কর। ৪.নিজ দায়িত্বে এলাকায় মক্তব চালু কর।যেন এমন কোন শিশু বড় না হয় যে কুর আন পড়তে পারে না। ৬.সকল সমস্যার সমাধান নামাজের দ্বারা (আল্লাহর থেকে) সমাধানের চেষ্টা কর। ৭.ঘরের মধ্যে তালিম চালু কর।বদ দ্বীন দূর হয়ে যাবে। ৮.রেওয়াজি মেহনত দিয়ে দ্বীন জিন্দা হবে না।সাহাবাওয়ালা ত্বরিকায় মেহনত করতে হবে।এজন্য বেশি বেশি করে হায়াতুস সাহাবা কিতাব পড়। ৯.মানুষকে মসজিদের দিকে ডাক।মসজিদের পরিবেশে এনে তাকে দাওয়াত দাও। ১০. মসজিদে ২৪ ঘণ্টা আমল চালু রাখ। ১১.তিন ধরনের লোক আল্লাহ থেকে কিছু নিতে পারে না। এক,যারা এই এক্বিন রাখে যে আল্লাহই সব করেন কিন্তু দেবদেবীরর মাধ্যমে করেন। দুই,যারা এই এক্বিন রাখে যে আল্লাহই সব করেন কিন্ত...

“তাওবা” - ইছলাহে নফস ও আত্মসংশোধনের প্রথম সিঁড়ি

শয়তান মানুষের মনে এই দুশ্চিন্তা ঢেলে দিয়ে তার সামনে তাওবার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয় যে , তুমি তো মারদূদ হয়ে গেছো! তুমি তো এত বেশী গোনাহ করেছো এবং এত জঘন্য নাফরমানি করেছো যে , এখন তোমার নাজাতের কোন উপায় নেই। সুতরাং বাকি জীবন গোনাহ থেকে বেঁচে থেকে আর কী লাভ , তার চেয়ে যত পারো ভোগ-উপভোগ করে নাও। আল্লাহ তা ‘ আলা তো কোরআন শরীফে পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন- قل ياعبادي الذين أسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله إن الله يغفر الذنوب جميعا إنه هو الغفور الرحيم অর্থাৎ বলুন , হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল , পরম দয়ালু। (সুরা যুমারঃ ৫৩) মাশায়েখ ও বুযুর্গানে দ্বীনের তরীকা এটাই যে , আল্লাহ তা ‘ আলা যখন কাউকে নিজের ইছলাহ ও সংশোধনের ফিকির দান করেন আর সে ইছলাহের নিয়তে তাদের খেদমতে  হাযির হয় তখন প্রথমেই তারা তাকে তাওবার তালকীন করেন , যেন সে খাঁটি তাওবার মাধ্যমে পিছনের সমস্ত গোনাহের নাজাসাত ও গান্দেগি থেকে নিজেকে পাকছাফ করে নেয়। ...