Posts

Showing posts from 2025

জুলফিকার আলি ভুট্টো ও সিমলা চুক্তি- মাওলানা আতিক উল্লাহ ২৯.০৪.২০২৫

  বিসমিল্লাহ জুলফিকার আলি ভুট্টো ও সিমলা চুক্তি —-- ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর, জুলফিকার আলি ভু্ট্টো পরাজিত, বিধ্বস্ত পাকিস্তানের শাসক হলেন। তখনো পাকিস্তানের কোনো সংবিধান ছিল না। সামরিক শাসনের নিয়ম মেনেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান ভু্ট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। ভু্ট্টো হলেন চীপ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটর ও প্রেসিডেন্ট। সেই রাতে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে ভুট্টো বলেছিলেন, আমি শপথ করছি, বিভক্ত, দ্বিখণ্ডিত দেশকে এক করে নতুন পাকিস্তান গড়ব। সদ্যগঠিত বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। ভু্ট্টোর খাহেশ ছিল যে কোনো ভাবেই হোক, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে মিলিয়ে কনফেডারেশন (যুক্তরাজ্য) গঠন করে পাকিস্তানের ভাঙন ঠেকাবেন। ভুট্টো মসনদে বসেই শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করলেন। রাওয়ালপিন্ডির এক বাংলোতে এনে আলোচনা শুরু করলেন। ভুট্টোর জীবনীকার স্ট্যানলি ঔলপোর্ট লিখেছে, শেখ মুজিবকে ভু্ট্টো প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছা হতে পারেন, পবিত্র কুরআন হাতে শপথ করছি, আপনাকে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে আমি রাজনীতি থেকে অব...

দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা- মাওলানা আতিক উল্লাহ ১৪.০৭.২০২৫

(আগের পোস্টের পর থেকে) --- রাজা গনেশ ইলিয়াস শাহের নাতি সুলতান গিয়াসুদ্দীন আযম শাহের দরবারে এক হিন্দু সভাসদ ছিল, নাম রাজা গনেশ (১৩৭০-১৪২২)। গনেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়ার জমিদার ছিল। মনে মনে ইসলাম, মুসলমান, মুসলিম শাসনের প্রতি তীব্র আক্রোশ পুষে রাখত। সুযোগ পেলেই বিষাক্ত সাপের মতো ছোবল হানত। গনেশ ছিল ঠা-া মাথার লোক। সে জানত, সরাসরি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করতে পারবে না। ছলেবলেকৌশলে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বাংলার বুক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের চিনহ মুছে দেয়ার জন্য সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনা হাতে নিল। কৌশলে সুলতানের দরবারে ঢুকে পড়ল। ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ হিন্দু-বৌদ্ধদের প্রতি উদার ছিলেন। হিন্দু গনেশ এই উদারতাকেই কাজে লাগিয়েছিল। নানা কৌশলে দরবারে প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে চলেছিল। গনেশ সবকিছু করত পর্দার আড়াল থেকে। সামনে আসত না। ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজীর ইনতিকালের পর থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত ১৩২ বছরে প্রায় ২৩ জন মুসলিম শাসনকর্তা বাংলাদেশ শাসন করেছেন। কথিত আছে, গনেশের ষড়যন্ত্রের ফলে বাংলার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ শাহাদাতবরণ করেন। এরপর ১৪১০ থেকে ১৪১৪ সাল পর্যন্ত ইলিয়াশা...

দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা- মাওলানা আতিক উল্লাহ ১৪.০৭.২০২৫

ছাত্রজীবন থেকেই আমি আর দোস্ত আসলাম প্রতিজ্ঞা করেছিলাম , আমরা নিজেদের জীবনকে উম্মাহর জন্য কুরবান করব। দুজনের ক্ষেত্র ভিন্ন হবে। আমি তালীম - তাবলীগ নিয়ে কাজ করব , আসলাম অর্থনীতি ও সমাজসেবা নিয়ে কাজ করবে। সেই সুবাদেই কর্মস্থল হিসেবে ঢাকাকে বেছে নেয়া। আব্বা চেয়েছিলেন গ্রামেই তার মিশনকে এগিয়ে নিই। তাকে আমাদের লক্ষ্য - উদ্দেশ্য খুলে বলেছি। সানন্দে রাজি হয়েছেন। আব্বাজান ছিলেন ফুরফুরা শরীফের মুরিদ। জৌনপুর ঘরানার সাথেও আব্বাজানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। দাদাজান ছিলেন জৌনপুর ঘরানার সুফি প্রকৃতির মানুষ। আব্বাজান কলকাতার শিক্ষাজীবনে বামচিন্তার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন। ছোটবেলা থেকে ইবাদত - বন্দেগীর পরিবেশে বেড়ে ওঠার পরও কলকাতায় বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে বামপ্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। কলকাতার আকাশে বাতাসে বামরেণু উড়ে বেড়ায়। বাঁচার উপায় ছিল না। জ্ঞান ও শিল্পচর্চার কেন্দ্রগুলো বামকবলিত ছিল। বামচিন্তা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। দেশভাগের পর যারা ঢাকায় এসে এপারবাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ন...