Posts

Showing posts from January, 2017

খাজা উসমান হারূনী রাহ.

ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সিলসিলা প্রচলিত ছিল এবং এখনও আছে। এসব সিলসিলার মাঝে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে চিশতিয়া সিলসিলা। এই সিলসিলার সূচনা করেছিলেন শায়খ আবু ইসহাক শামী রাহ. (মৃত্যু : ৯৪০ হিজরী)। কিন্তু সিলসিলাটিকে সুখ্যাতির চুড়ায় পৌঁছানো ও বিস্তৃতি দানের কাজটি আঞ্জাম দিয়েছেন হযরত খাজা মঈনুদ্দীন আজমিরী রাহ.। এই পূত সিলসিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কড়া হচ্ছেন হযরত খাজা উসমান হারূনী রাহ.। তিনি ছিলেন হযরত খাজা আজমিরী রাহ.-এর পীর ও মুর্শিদ। যদিও তিনি শুধু একবার ভারত উপমহাদেশে আগমন করে এ অঞ্চলকে ধন্য ও সম্মানিত করেছিলেন তবুও পরোক্ষভাবে তাঁর অবদান গোটা ভারতবর্ষেই ছড়িয়ে আছে। কেননা তাঁরই নির্দেশে খাজা আজমিরী ভারতে তাশরীফ এনেছিলেন এবং মানুষকে ইসলাহ করেছিলেন। হযরত খাজা উসমান হারূনী রাহ. ছিলেন হযরত আলী রা.-এর বংশধর। এগারটি ধাপের মধ্যস্থতায় হযরত আলী রা.-এর সঙ্গে তাকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়। তার মাতৃভূমি ছিল খোরাসানের  ‘ বরূন ’  নামের একটি প্রদেশ। প্রধম জীবন থেকেই তিনি ইবাদত-আমলের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। নয় দিনে ও এক রাতে পবিত্র কুরআন খতম করতেন। সত্তর বছর পর্যন্ত ক...

আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রাহ. : মহৎ মানুষ, আদর্শ পুরুষ

শীতকাল। সকাল দশটা। সূর্য ওঠেছে আজকের আকাশে ,  মৃদু রোদ ,  দেহ-মন প্রশান্ত করা আবহাওয়া। জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের দফতর-কক্ষের সামনে একটি চেয়ারে বসে আছেন একজন প্রৌঢ় ব্যক্তিত্ব। হাতে লাঠি। গায়ে ধবধবে সাদা সুতি পাঞ্জাবী। তার ওপর হাল্কা আকাশী রংয়ের সদরিয়া। রোদের আলোয় চশমার ফ্রেমটা চিকচিক করছে। চেহারায় চিন্তার ছাপ। কী যেন ভাবছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রখ্যাত বহু আলিমে দ্বীন তাঁর শাগরিদ কিংবা নাতি-শাগরিদ। কওমী মাদরাসাগুলোতে মাতৃভাষা বাংলায় পাঠদান  ‘ আন্দোলনের ’   অগ্রণী ব্যক্তিত্ব তিনি। বহু কালজয়ী গ্রন্থের লেখক ,  অনুবাদক ও সম্পাদকও তিনি। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় কী ভাবছেন এই মহান পুরুষ ?!  প্রায়-ই তো বলেন ,  এক পা কবরে চলে গেছে। আরেকটি পা যেন নিরাপদে-সালামতে কবরে রাখতে পারি সে-ই দুআ করো। আহা ,  মৃত্যুর আগেই মৃত্যুর ফিকির ,  পরকাল-ভাবনা। সুন্দর হবে তো আমার ওই পারের জীবন! হযরত এখনো এগুলোই ভাবছেন ,  কিংবা ভাবছেন ছাত্র-সমাজ এবং আম জনতাকে নিয়ে। হুযুর-পত্নী আম্মাজানই তো ওই দিন বললেন ,  তোমাদের হুযুর ঘরে আসলেও শান্তিতে থাকেন ...

তা‘লীমের সাথে তাবলীগের এক বাস্তব উদাহরণ : হযরত মাওলানা আবদুল আযীয রাহ.

বৃহত্তর নোয়াখালীর যে কোনো মাদরাসায় শর্শদী মাদরাসার লাকসামের হুযুরকে চেনে না বা তাঁর নাম শোনেনি ,  এমন আলেম বা ছাত্র মনে হয় খুব কমই পাওয়া যাবে। তাঁর আসল নাম হয়ত অনেকেই জানে না ,  কিন্তু লাকসামের হুযুর বললে মানসপটে যে ছবিটি ভেসে ওঠে তা একজন নিরলস মোবাল্লেগ উস্তাযের ছবি। আমাদের অনেকেই মাদরাসার উস্তায হিসেবে খেদমত করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন এবং উস্তায হিসেবে সফলতাও অনেকে লাভ করেছেন। আবার অন্যদিকে আমাদের অনেকে তাবলীগের সাথে জড়িত হয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজও ভালোভাবে হয়ত আঞ্জাম দিচ্ছেন ,  কিন্তু তালীম ও তাবলীগের সফল সমন্বয়ের বিষয়টি খুবই বিরল। আমার জানামতে শর্শদী মাদরাসার মরহুম হযরত মাওলানা আবদুল আযীয ছাহেব (লাকসামের হুযুর) বড় সমন্বয়ধর্মী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। যিনি তাঁর শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজটিও আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের পুরো ৪৫/৪৬ বছর একই মাদরাসায় কাটিয়ে দিয়েছেন। এই সুদীর্ঘ তালীমি জীবনে তিনি মনে হয় একটি দিনও তাবলীগ বা দাওয়াতী কাজ ব্যতীত ব্যয় করেননি। তালীম-তাদরীসই তার প্রধান কাজ ছিল। সঙ্গে তাবলীগের কাজেও যুক্...