বিসমিল্লাহ
Preacher of Islam
Sunday, July 13, 2025
জুলফিকার আলি ভুট্টো ও সিমলা চুক্তি- মাওলানা আতিক উল্লাহ ২৯.০৪.২০২৫
দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা- মাওলানা আতিক উল্লাহ ১৪.০৭.২০২৫
দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা- মাওলানা আতিক উল্লাহ ১৪.০৭.২০২৫
ছাত্রজীবন থেকেই আমি আর দোস্ত আসলাম প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা নিজেদের জীবনকে উম্মাহর জন্য কুরবান করব। দুজনের ক্ষেত্র ভিন্ন হবে। আমি তালীম-তাবলীগ নিয়ে কাজ করব, আসলাম অর্থনীতি ও সমাজসেবা নিয়ে কাজ করবে। সেই সুবাদেই কর্মস্থল হিসেবে ঢাকাকে বেছে নেয়া। আব্বা চেয়েছিলেন গ্রামেই তার মিশনকে এগিয়ে নিই। তাকে আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য খুলে বলেছি। সানন্দে রাজি হয়েছেন।
আব্বাজান ছিলেন ফুরফুরা শরীফের মুরিদ। জৌনপুর ঘরানার সাথেও আব্বাজানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। দাদাজান ছিলেন জৌনপুর ঘরানার সুফি প্রকৃতির মানুষ। আব্বাজান কলকাতার শিক্ষাজীবনে বামচিন্তার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন। ছোটবেলা থেকে ইবাদত-বন্দেগীর পরিবেশে বেড়ে ওঠার পরও কলকাতায় বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে বামপ্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। কলকাতার আকাশে বাতাসে বামরেণু উড়ে বেড়ায়। বাঁচার উপায় ছিল না। জ্ঞান ও শিল্পচর্চার কেন্দ্রগুলো বামকবলিত ছিল। বামচিন্তা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। দেশভাগের পর যারা ঢাকায় এসে এপারবাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তারা ওপারবাংলা থেকে বামবীজ বহন করে এনেছিলেন। এরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা, টিএসসি, নাট্যমঞ্চ, থিয়েটার, শিল্পকলাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। ওপারবাংলার পত্রিকা-সাময়িকিগুলো নিয়মিত বামজল ঢেলে গেছে। শুরুর দিক বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যায়লগুলোর শিক্ষকরা হয় সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়তো প্রভাবিত ছিলেন। ঢাকা যেমন কলকাতা দ্বারা প্রভাবিত ছিল, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকেন্দ্রগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বামকণা এভাবেই ঢাকার বাইরে ছড়িয়েছে। ধর্মীয় ঘরানার লোকজন শিল্পসাহিত্য, সাংবাদিকতা চর্চার প্রতি উদাসীন থাকার সুযোগে বামচিন্তা ফাঁকা মাঠ পেয়ে গিয়েছিল। সাতচল্লিশের আগে থেকেই শিল্পসাহিত্যের লোকজন চিন্তাচেতনায় বামাচারী ছিলেন । ঢাকার শিল্পসাহিত্যে বাংগালি জাতীয়তাবাদের ধেনো আসত ওপার থেকে। পরিকল্পিতভাবেই। যার অনিবার্য পরিণতি ভাষা আন্দোলন হয়ে একাত্তর। পিন্ডির অদূরদর্শিতা, অহংকার তো ছিলই।
ওপারে যেভাবে বামরেণু সমাজের গভীরে পৌঁছে গিয়েছিল, এপারে সেভাবে দাঁত বসাতে পারেনি। বামেরা ঢাকার বাইরে বেরোতে পারেনি। বাংলার মুসলমানদের গভীর ধর্মবোধ এর প্রধান কারণ। বামদের তত্ত্বের জটিল কচকচানিও কম দায়ী নয়। লেনিন-স্টালিনের নৃশংস শাসন, উত্তরবঙ্গে সর্বহারাদের ডাকাতি, নকশাল আন্দোলনের ব্যর্থতার চিত্রও সবার সামনে দগদগে হয়ে ছিল। ওপারবাংলাতেও ধীরে ধীরে বামমোহ কেটে যাচ্ছিল। বামেরা ক্ষমতার মোহে মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভুলে গিয়েছিল। নেতারা ক্ষমতালোভী আর স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিল। দল ও নেতারা নিজেকে সমালোচনার উর্ধে তুলে ফেলেছিল। সবচেয়ে বড় কথা, সবকিছু রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকবে, ব্যক্তিমালিকানা বলতে কিছু থাকবে না, এই চিন্তাটাই তো চরম মূর্খতাসুলভ। কোথাও এই চিন্তার সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে? হয়নি। আমি পরিশ্রম করব, ফসল বুনব, দিনশেষে উৎপাদিত ফসলের মালিক হয়ে যাবে রাষ্ট্র, সুস্থ বিবেকবুদ্ধি এই চিন্তা গ্রহণ করতে পারে না। জোর করে কমুনিজম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে, চীনে লাখো মানুষকে বলি দেয়া হয়েছে, তারপরও কাজ হয়নি।
কড়া বাঁম থেকে আব্বাজান এভাবে ডানে মোড় নিবেন, কাছেপিঠের কেউ আগে টেরটিও পায়নি। বাম আন্দোলনে জড়িয়েছেন কলকাতায় পড়াশোনার সুবাদে। কলকাতার পাট চুকিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রামে চলে আসার পর আব্বাজান জীবনের বাঁক বদল করেছেন। দাদাজানও ফুরফুরা শরীফের মুরিদ ছিলেন। ছেলেবেলাতেই আব্বাজানকে মুরিদ করিয়ে নিয়েছিলেন। দাদাজান জৌনপুর সিলসিলার সাথেও গভীর সম্পর্ক রেখে চলতেন। দাদিজান ছিলেন জৌনপুরি সিলসিলার মেয়ে। দাদাজান শ্বশুরবাড়িতে গেলে জৌনপুর তরিকার লোকজনের সাথেই ওঠাবসা করতে হত। আমাকে দেওবন্দ ঘরানার মাদরাসায় ভর্তি করানোর পর পারিবারিক সিলসিলায় নতুন বাঁক তৈরি হয়েছে। আব্বাজান বুঝতে পেরেছিলেন, সন্তানকে প্রকৃত ইলম শেখাতে হলে দেওবন্দ ঘরানার মাদরাসায় ভর্তি করানোর বিকল্প নেই। দাদাজান ও আব্বাজান আদর্শিকভাবে সাইয়েদ আহমাদ শহীদ রহ.-এর আদর্শ লালন-ধারণ করতেন। তাদের কর্মপন্থা সামনে রেখে কীভাবে বাংলায় দ্বীনের তাবলীগ করা যায়, এ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতেন।
আল্লাহ তাআলা আমাকে অসাধারণ এক পিতার সন্তান করেছেন, এক অসাধারণ মানুষের দোস্তি দান করেছেন। যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, দেওবন্দ থেকে আমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি কী? এককথায় বলব- ‘মাওলানা আসলামের দোস্তি’। আল্লাহ তাআলার আজীব কুদরত দুজনকে বাংলা ও বিহার থেকে নিয়ে দেওবন্দে একত্র করেছেন। দুজনের আগ্রহের কেন্দুবিন্দুও প্রায় এক। মাওলানা আসলাম তার পূর্বসূরি সম্রাট শেরশাহকে আদর্শ মানেন। আমার আদর্শ শাসক হচ্ছেন দুইজন, ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ও শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ।
বখতিয়ার খিলজি (১১৬০-১২০৬) বাংলা আক্রমণ করেছিলেন ১২০৫ সালে। সেন বংশের সর্বশেষ রাজা লক্ষণসেনকে পরাজিত করেছিলেন। দিল্লীর প্রথম মুসলিম সালতানাতের নাম মামলুক সালতানাত (দাসবংশ)। এর প্রতিষ্ঠাতা কুতবুদ্দীন আইবেক (১১৫০-১২১০)। এই সালতানাত প্রায় চুরাশি বছর (১২০৬-১২৯০) দিল্লী শাসন করেছিল। এই মামলুক সালতানাতের পঞ্চম সুলতান ছিলেন রাজিয়া সুলতানা (১২০৫-১২৪০)। ভারতের প্রথম ও একমাত্র মহিলা সুলতান। বখতিয়ার খিলজী আপন বাহুবলে বাংলা দখল করলেও সুলতান কুতবুদ্দীন আইবেকের নামে খুতবাপাঠ ও মুদ্রা চালু করেছিলেন। নিজেকে স্বাধীন শাসক ঘোষণা দেননি।
বাংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ (১৩০০-১৩৫৮)। তিনিই সর্বপ্রথম অখ- বাংলা ও বিহারের শাসক ছিলেন। একদম শূন্য হাতে শুরু করে ২ লক্ষ ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত তার সালতানাত বিস্তৃত করেছিলেন। দিল্লীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনিই সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলা গঠন করেছিলেন। দিল্লীর ফিরোজ শাহ তুঘলক (১৩০৯-১৩৮৮) সেনাবাহিনী নিয়ে স্বয়ং ইলিয়াস শাহের রাজধানী পাণ্ডুয়া আক্রমণ করেন। দীর্ঘদিন যুদ্ধ করেও দিল্লীর সুলতান বাংলার সুলতানকে পরাজিত করতে পারলেন না। ফিরোজ শাহ বাধ্য হয়ে ইলিয়াস শাহের কাছে সন্ধির প্রস্তাব পাঠালেন। কোনো রকম মুখরক্ষামূলক সন্ধি করে ব্যর্থ মনোরথে দিল্লী ফিরে গেলেন। বঙ্গবিজেতা বখতিয়ার খিলজির মতো মানুষ যেখানে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে নেপাল অভিযানে বিপর্যস্ত হয়ে ফিরে এসেছিলেন, অসম সাহসী ইলিয়াস শাহ দেড়শ বছর পর ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দে নেপালে অভিযান চালিয়ে কাঠমা-ু দখল করেছিলেন। তিনিই বাংগালির প্রথম জাতীয় নেতা। কাউকে জাতির পিতা বলতে হলে, শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহকেই বলা উচিত। বৃহত্তর বাংলা বললে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের চিত্র মাথায় আসে, সেটা ইলিয়াস শাহের গঠন করা সালতানাতেরই ফলাফল।
ফখরউদ্দীন মুবারক শাহ
১: ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ (১৩০০-১৩৪৯)। নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জাতিতে তুর্কি ছিলেন। ভাগ্যের অন্বেষণে সোনারগাঁওয়ের প্রশাসক বাহরাম খানের দেহরক্ষীর চাকরি নিয়েছেন। তখন বাংলার রাজধানী ছিল লখনৌতি। এখনকার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা ও ভারতের মালদহ জেলার গৌড় এলাকার মিলিত রূপই লখনৌতি। দিল্লি থেকে গভর্নর নিয়োগ দেয়া হত লখনৌতিতে। দিল্লি থেকে বহুদূরে হওয়ার কারণে এদিককার খোঁজখবর রাখা মুশকিল হয়ে যেত। কদিন পরপর বাংলা থেকে বিদ্রোহের সংবাদ শুনতে শুনতে দিল্লির শাসকরা তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিল। তুঘলক শাসনামলে (১৩২০-১৪১৪) সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক এবং তার সন্তান মুহাম্মদ বিন তুঘলক লখনৌতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলাদা করে ভাবতে বাধ্য হন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন, লখনৌতিকে অখণ্ড রেখে দিলে একের এক বিদ্রোহ লেগেই থাকবে। শাসনের সুবিধার্থে লখনৌতিকে তিনটি প্রশাসনিক অংশে ভাগ করে নিলেন।
১. লখনৌতি।
২. সপ্তগ্রাম (পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া ও চুঁচুড়া)।
৩. সুবর্ণগ্রাম (বর্তমানে সোনারগাঁও)।
মুহাম্মদ বিন তুঘলক আনুগত্যের উপহার হিসেবে সেনাপতি বাহরাম খানকে সুবর্ণগ্রামের প্রশাসক নিযুক্ত করেছেন। বাহরাম খানের একজন দেহরক্ষীর নাম ছিল ফখর। মেধা, যোগ্যতা, অসম সাহসের অধিকারী ফখর ধীরে ধীরে বাহরাম খানের ডানহাতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৩৩৮ সালে মারা যান বাহরাম খান। সেই সুযোগে সুবর্ণগ্রামকে স্বাধীন ঘোষণা দিয়ে গদিতে বসেন ফখর। নামধারণ করেন ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ।
মুহাম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে নির্দেশ পাঠালেন লখনৌতির প্রশাসক কদর খানকে, সুবর্ণগ্রাম আক্রমণ করে ফখরকে দমন করতে। সপ্তগ্রামের প্রশাসক আজম-উল-মুলকও কদর খানের সাথে যোগ দিয়েছিল। এমনকিছু ঘটতে পারে দূরদর্শী ফখরউদ্দীন আগেই ভেবে রেখেছিলেন। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌবহর তৈরি করে রেখেছিলেন। সম্মিলিত দিল্লিবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারবেন না, এ তো জানা কথা। সামান্য লড়াই করেই ফখরউদ্দীন নৌবহর নিয়ে মেঘনা পার হয়ে ওপারে চলে গেলেন। আগে থেকেই ছক কষা ছিল। সময় থাকতেই পর্যাপ্ত রসদ, ধনসম্পদ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রেখেছিলেন। মেঘনার পূর্বতীরবর্তী গ্রামাঞ্চলে ওঁৎ পেতে বসে থাকলেন ফখরউদ্দীন। কদর খান ও আজমের নৌশক্তি না থাকায় ফখরউদ্দিনকে ধাওয়া করতে পারলেন না। নিতে পারলেন না। সুবর্ণগ্রাম জয়ের পর নিজের ভাগের সম্পদ নিয়ে সপ্তগ্রামে ফিরে গেলেন আজম-উল-মুলক। দখল পাকাপোক্ত করতে কদর খান আরো কিছুদিন সুবর্ণগ্রামে থেকে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করলেন। দেখতে দেখতে বর্ষা চলে এলো। ক্রমাগত বৃষ্টি, পানির স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া কদর খানকে বেকায়দায় ফেলে দিল। পথঘাট ডুবে যাওয়ায় দেখা দিলো চরম খাদ্য সংকট। ক্ষুধার জ্বালায় সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হল। সুযোগ কাজে লাগাতে বিলম্ব করলেন না ফখরউদ্দীন। দ্বিধাবিভক্ত দিল্লিসেনাদের কাছে পারিতোষিক পাঠালেন ফখরউদ্দিন। অবস্থা বুঝে নিজেও নৌবহর নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালালেন। সহজেই পুনরুদ্ধার হল সুবর্ণগ্রাম।
ফখরউদ্দিনের জানা ছিল, তার শাসক হয়ে বসাটা অন্যদের চোখে অস্বাভাবিক ঠেকবে। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ করেননি। লখনৌতি বা সপ্তগ্রাম আবার হামলা আসতে পারে। ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে রাজ্যসীমা ও শক্তি বাড়িয়ে তুলতে হবে। পূর্বদিকের সমতট অঞ্চলের দিকে নজর দেয়া যেতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর দখলে রাখতে পারলে টাকার অভাব হবে না। জাভা, সিংহল, সুমাত্রা, আরব থেকে এখানে একের পর এক বাণিজ্যজাহাজ ভেড়ে। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে, বিপুল রাজস্ব আয় হবে। এমন চিন্তা থেকেই ফখরউদ্দীন সেনা অভিযান শুরু করলেন।
সমতট অঞ্চলে প্রায় দুইশ বছর (১২-১৪ শতক) ধরে দেব রাজবংশের শাসন চলেছিল। তাদের রাজধানী ছিল তিন জায়গায়, চট্টগ্রামের পটিয়া, কুমিল্লার ময়নামতিতে, ঢাকার বিক্রমপুরে। অভ্যন্তরীন কোন্দলে দেব রাজবংশ দুর্বল হয়ে পড়লে কুমিল্লা, চট্রগ্রামসহ বেশ কিছু অঞ্চল ত্রিপুরারাজের অধীনে চলে গিয়েছিল। একবছর ধরে অভিযানের প্রস্তুতি চলল। গড়ে তুললেন প্রশিক্ষিত পদাতিক ও নৌবাহিনী। ১৩৩৯ সালে কুমিল্লায় পরাজিত করলেন ত্রিপুরারাজাকে। যুদ্ধ করতে করতে নোয়াখালী হয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ করলেন। দিকে এগিয়ে গেলেন। চট্টগ্রাম অভিযানে বারোজন পীর-আউলিয়া তার সাথে যোগ দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের পর বারো আউলিয়া চট্টগ্রামেই তাদের খানকা স্থাপন করে ইসলাম প্রচার শুরু করেছেন। এখান থেকেই বারো আউলিয়ার দেশ কথার উৎপত্তি। ফখরউদ্দীন চট্টগ্রাম বন্দরকে ঢেলে সাজালেন। মুসলিম শাসনের আওতায় আসায় চট্টগ্রামে আরব বণিক-দাঈগণের আনাগোনা বৃদ্ধি পেল। সাথে বাড়ল সমুদ্রবাণিজ্য, রাজস্ব আয়।
ফখরউদ্দীন স্থলবাহিনীর সাথে নৌবাহিনী গঠনেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বন্দরে জাহাজনির্মাণশিল্পকেও পৃষ্ঠপোষকতা করলেন। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে দেশের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী-নোয়াখালি হয়ে চাঁদপুর পর্যন্ত বিরাট রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন। জন্মভূমি বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিনি বহু মসজিদ, সরাইখানা, দিঘি স্থাপন করেছিলেন। ফেনীতে ফখরউদ্দিনের মসজিদ, চৌদ্দগ্রামের ফখরউদ্দিনের দিঘি এখনও সগৌরবে টিকে আছে। ফেনি শহরে ফখরউদ্দীনের সময়কার বিশালাকায় বৃক্ষ আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
চট্টগ্রামের পর ফখরউদ্দীন নজর দিলের শ্রীহট্ট (সিলেট)-এর দিকে। শ্রীহট্টে আগে থেকেই শাহ জালাল রহ. (১২৭১-১৩৪৬) মুসলিম শাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি ফখরউদ্দীনের বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন। শাহ জালাল ইয়ামানির মতো কামেল পীরের সান্নিধ্যে এসে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, এতদাঞ্চলে ধর্ম ও রাজ্য বিস্তারের জন্য পীর-আউলিয়ার সাহায্য-সমর্থন লাভের বিকল্প নেই। ফখরউদ্দীন পীর-দরবেশ, আলিম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় নিয়ে আসেন। সুবর্ণগ্রামের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী পীর-দরবেশগণের বিনামূল্যে থাকাখাওয়া ও রাহাখরচার ব্যবস্থা করে দিতেন।
ফখরউদ্দীনের শাসনামলেই ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮) বাংলা সফরে এসেছিলেন। তিনি মূলত শাহ জালাল রহ-এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন (১৩৪৬) করেছিলেন। ইবনে বতুতার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন ফখরউদ্দীন। শুধু তাই নয়, হাতখরচের জন্য দৈনিক আধা দিনার বরাদ্দ করেছিলেন। বাংলার শস্যফসল, ধনসম্পদ, মাছগোশতের প্রাচুর্য, ব্যবসাবাণিজ্য ও নৌবহর দেখে মুগ্ধবিস্মিত হয়েছিলেন ইবনে বতুতা। তার সফরনামাতে বলেছিলেন, ফখরউদ্দিন চমৎকার ও জনপ্রিয় একজন শাসক, মুসাফির, দরবেশ ও সুফিদের প্রতি তার অগাধ অকৃত্রিম ভালোবাসা।
দীর্ঘ এগারো বছর বাংলা শাসন করেছিলেন ফখরউদ্দিন। তার শাসনামলে বাংলাসীমান্তের পূর্বদিকের রেখা চিরদিনের জন্য স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা স্থায়ীভাবে বাংলার অংশ হয়ে গিয়েছিল। ত্রিপুরা ও আরাকান রাজারা বারবার আক্রমণ করেও এই অঞ্চলগুলো দখলে নিতে পারেনি।
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ভাগ্যের অন্বেষণে জন্মভূমি সিস্তান থেকে দিল্লিতে আসেন ইলিয়াস। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসন চলছে দিল্লিতে। দুধভাই আলি মুবারকের সুপারিশে চাকরি হল সুলতানের চাচাত ভাই ফিরোজের দফতরে। ফিরোজের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে ইলিয়াস বাংলায় চলে আসেন। সপ্তগ্রামে এসে আলাউদ্দীন আলি শাহের সেনাবাহিনীতে চাকুরি নেন। নিজ যোগ্যতাবলে পদোন্নতি লাভ করতে করতে সেনাপতির পদ লাভ করেন। দেহরক্ষীর হাতে আলাউদ্দীন আলী শাহ নিহত হলে সেনাপতি ইলিয়াস নিজেকে শাসক ঘোষণা করেন। তখন ১৩৪২ সাল। অভিজ্ঞ ইলিয়াস শাহ মসনদে বসেই নিজেকে প্রতিষ্ঠার কাজে লেগে গেলেন। প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রতি মনোযোগ দিলেন,
১: আগে ঘোড়সওয়ার বাহিনীতে শুধুই মুসলিমদের ভর্তি করা হত। তিনি হিন্দুদেরও ভর্তি শুরু করলেন। পদাতিক বাহিনী আর প্রশাসনেও যোগ্য হিন্দুদের পদায়ন করলেন।
২. বাংলা নদীমাতৃক অঞ্চল। এখানে কৃষির মতো নৌপেশাতেও বিপুল লোকজন। নদী অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রতিটি মানুষই কমবেশ নৌ-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে চৌকশ নৌবহর গড়ে তুললেন।
৩. প্রস্তুতি শেষ। উড়িষ্যায় অভিযান চালিয়ে দখল করে নিলেন। তারপর একে একে জয়পুর, কটক, চিল্কায় হ্রদ জয় করলেন। বিপুল ধনরতœ নিয়ে সপ্তগ্রামে ফিরলেন।
৪. এবার উত্তর সীমান্তের পার্বত্য দেশগুলোর দিকে নজর দিলেন। প্রায় ১০০ বছর আগে বখতিয়ার খিলজি তিব্বত অভিযানে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেটা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলেন। ১৩৫০ সালে নেপালের দিকে অগ্রসর হলেন। নেপালি সৈন্যরা আগেরবার বখতিয়ার খলজিকে পরাজিত করলেও, ইলিয়াস শাহের সাথে সুবিধা করতে পারল না। দুর্গম নেপাল দখল করলেও ধরে রাখলেন না। যেখানে যত ধনসম্পদ পেয়েছেন, কুড়িয়ে ফিরে এলেন।
৫. ১৩৫১ সালে সিন্ধু অভিযানকালে দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক অসুস্থ হয়ে মারা যান। মুহাম্মাদ বিন তুঘলকের কোনো উত্তরাধিকারী না থাকায় সভাসদদের পরামর্শমতে চাচাতো ভাই ফিরোজ বিনরজবকে সিংহাসনে বসানো হয়। ফিরোজের সাথে ইলিয়াসের পুরনো দ্বন্দ্ব ছিল। ইলিয়াস বসে থাকার লোক নন। তিনি জানতেন ফিরোজ তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেই। ফিরোজ বের হওয়ার আগে ১৩৫১ সালে ইলিয়াস নিজেই দিল্লির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। দখল করলেন গুরুত্বপূর্ণ ত্রিহুত। ফিরোজ দিল্লির মসনদ সাজাতে ব্যস্ত থাকায় এদিকে নজর দিতে পারেননি। ইলিয়াস তুফান গতিতে বিহার, উত্তর প্রদেশের চম্পারন, গোরখপুর, বেনারস দখল করলেন। তার ইচ্ছা ছিল এবার দিল্লির দিকে যাবে। পরামর্শকরা নিষেধ করা নিরস্ত হয়েছেন।
৬. সপ্তগ্রামে ফিরে সুবর্ণগ্রাম, লখনৌতি দখলে আনলেন। এবার পুরো বাংলা তার অধীনে চলে এল। পুরো রাজ্যের নাম দিলেন ‘বাঙ্গালা’। নিজেকে ঘোষণা করলেন ‘শাহ-ই-বাঙ্গাল’ হিসেবে। ফিরোজ শাহ দিল্লি গুছিয়ে ইলিয়াসকে শায়েস্তা করার জন্য ১৩৫৩ সালে বাংলায় এলেন। ইলিয়াস আশ্রয় নিলেন সুরক্ষিত একঢালা দুর্গে। দীর্ঘদিন অবরোধ করার পরও ফিরোজ শাহ কিছুতেই একঢালা দুর্গ ভেদ করতে পারলেন না। এর মধ্যে বর্ষা চলে এল। দিল্লির সেনারা এমন বর্ষাবাদলের সাথে পরিচিত নয়। ইলিয়াসকে কোনো মতেই কাবু করতে না পেরে সম্মানজনক সন্ধি করে ১৩৫৪ সালে দিল্লি ফেরত গিয়েছিলেন ফিরোজ শাহ।
আমি আর দোস্ত আসলাম মিলে দীর্ঘদিন সময় লাগিয়ে উপমহাদেশের ইতিহাস নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করার চেষ্টা করেছি। পাঠনির্যাস হিসেবে আমরা কিছু মতামত দাঁড় করিয়েছিলাম। এই অঞ্চলে ইসলাম ধর্মকে মাটি ও মানুষের শেকড়ের সাথে মিশিয়ে দিতে হলে কিছু কাজ করত হবে,
১: নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মনীতি, কর্মনীতি সবকিছুতে বাস্তববুদ্ধি অর্জন করতে হবে।
২. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের কর্মনীতি সামনে রাখতে হবে। তাঁর মতো স্বাধীন শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো পরিস্থিতি এখন হয়তো নেই, তারপরও তিনিই বাংলার একমাত্র সুন্নী শাসক, যার আদর্শ অনুসরণ করা যায়।
৩. তিনি নিজের প্রশাসনে মুসলিমের পাশাপাশি যোগ্য হিন্দুদেরও স্থান দিয়েছিলেন। এই অঞ্চলে হিন্দুদেরকে শত্রু মনে করা যাবে না। তাদেরকে কাছে রাখতে হবে। তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে যে আমার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তাকে চোখে চোখে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। বাদশাহ আলমগীরও এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
৪. ইলিয়াস শাহ নিজের সেনাবাহিনী সাজিয়েছিলেন দিল্লীর কথা মাথায় রেখে। দিল্লী সবসময় বাংলার শত্রু, একথা তিনি মাথায় রাখতেন। দিল্লির মোকাবেলা করার জন্য তিনি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এজন্য ফিরোজ শাহ তুঘলক তৎকালীন বাংলার রাজধানী আক্রমন-অবরোধ করেও সুবিধা করতে পারেননি। দিল্লী সবসময় বাংলাকে পদানত করে রাখতে চাইবে, বাংলার শাসক-জনগণকে একথা মাথায় রাখতে হবে। দিল্লীতে মুসলিম শাসন থাকলেও তার অধীনে থাকা বাংলার জন্য নিরাপদ নয়। কারণ, মুসলিমদের ভাগ্যবিড়ম্বনার জেরে কখনো দিল্লীর মসনদে অমুসলিম শক্তি বসলে, তখন বাংলার জন্য সেটা কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বাংলাকে সবসময় তার স্বাধীন সত্ত্বা টিকিয়ে রাখা জরুরি। দিল্লির তাবেদারি করা শাসককে কোনোক্রমেই বাংলার শাসনক্ষমতা দেয়া যাবে না।
৫. বাংলায় নিরাপদ থাকলে হলে, সময়সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক হতে হবে। ইলিয়াস শাহ যেভাবে আগ বাড়িয়ে নেপাল, উড়িষ্যা, বারানসি পর্যন্ত তুফানগতিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি দিল্লী আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। দিল্লীকে চাপে না রাখলে দিল্লী চেপে ধরবে। দিল্লীর চোখে চোখ রেখে কথা না বললে, দিল্লি ঘাড়ে সওয়ার ধান্ধা খুঁজবে।
৬. নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। ইলিয়াস শাহ মসনদে বসেই এদিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এক অপরাজেয় নৌবহর গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে শক্তিশালী নৌ-বাহিনীর পাশাপাশি বিমানবাহিনীও গড়ে তুলতে হবে। বাংলাকে একটা প্রশ্ন সবসময় মাথায় রাখতে হবে। বাংলার সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে কারা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হবে? নিঃসন্দেহে দিল্লি। তাহলে দিল্লিই বাংলার বড় শত্রু। তাই বলে গায়ে পড়ে দিল্লির সাথে ঝগড়া বাঁধানো উচিত হবে না। দিল্লি হুমকি মনে করে, এমন কোনো দলমতকে প্রকাশ্যে প্রশ্রয় দিব না। সীমান্ত নিয়ে দিল্লীর সাথে সামান্যতম নমনীয়তা দেখাব না। ইলিয়াস শাহের কর্মনীতিও এমনটাই ছিল।
৭. বাংলার শাসক ও সামরিক বাহিনী যাতে এ বিষয়ে সচেতন থাকে, এজন্য দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। এমন যাতে না হয়, সামরিক বাহিনীকে ফুসলিয়ে ক্ষমতা দখল করার ফন্দি আঁটা হবে। তাহলে সামরিক বাহিনী ও সরকার উভয়ের চক্ষুশূলে পরিণত হতে হবে। আলিমের কাজ হবে হেকমতের সাথে দাওয়াত দেয়া। উপযুক্ত সময় ও সামর্থ হওয়ার আগে ক্ষমতা দখল করার পাঁয়তারা করলে, দাওয়াতের ক্ষেত্রই নষ্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সুফি নুর কুতবুল আলম রহ.-এর আদর্শ সামনে রাখতে হবে।
৮. সুফি নুর কুতবুল আলমের পরিবার ছিলেন ইলিয়াস শাহী সালতানাতের পীর। দ্বিতীয় সুলতান সিকান্দার শাহের সরাসরি পীর ছিলেন সুফি নুর কুতবুল আলম রহ। পীরের পরামর্শক্রমেই প্রথমে বাবা তারপর বেটা ‘সালতানাত-ই-বাঙ্গালা’ শাসন করে গেছেন। সালতানাতের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন।
৯. ওলামায়ে কেরাম ও দাঈগণের কর্মপন্থা হবে সুফি নুর কুতবুল আলমের মতো। তিনি প্রশাসনের বাইরে থেকে ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে গেছেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে রাষ্ট্রশক্তিকে কাজেও লাগিয়েছেন।
.
(পরবর্তী পোস্ট দ্রষ্টব্য)
লেখায় তথ্যগত, তত্ত্বগত কোনো ভুল ধরা পড়লে, কোনো বক্তব্যে খটকা লাগলে, কোনো কথায় অসঙ্গতি চোখে পড়লে, ধরিয়ে দেয়ার বিনীত অনুরোধ। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
মূল লেখা
https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=24126788890289139&id=100001540931061&rdid=mNgIrX8TFOfHNw5Y#