Posts

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর জীবন-সংগ্রাম-আবরার আবদুল্লাহ

Image
  ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বিন মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার প্রসার, আধ্যাত্মিক সাধনা, ইসলামী জ্ঞান-গবেষণা ও ইসলামী রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। তাঁকে বলা হয় তাওবার রাজনীতির প্রবর্তক। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সরব হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান মিশন ছিল বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার মক্তব প্রতিষ্ঠা করা। হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ১৮৯৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইদ্রিস ও মায়ের নাম খাদিজা। তাঁর দাদা আকরামুদ্দিন (রহ.) ছিলেন সাইয়েদ আহমদ বেরলভি (রহ.)-এর খলিফা। নয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম এবং তাঁদের বোন ছিলেন পাঁচজন। পারিবারিক পরিমণ্ডলে তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়। হাফেজ্জী হুজুর (...

শরীয়তের দৃষ্টিতে বাড়ি ভাড়ার নিয়ম-নীতি- মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া

  বাসস্থান মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। জীবিকা উপার্জনের তাগিদে বহু মানুষ আজ শহরমুখী। তাই প্রয়োজন হয়েছে বিপুল পরিমাণ বাসস্থানের। জীবনের এই অপরিহার্য প্রয়োজন পূরণের তাগিদে শহরগুলোতে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও বড় বড় অ্যাপার্টমেন্ট। তৈরী হচ্ছে বড় বড় কমার্শিয়াল স্পেস এবং শপিং মল। বসবাস বা ব্যবসার প্রয়োজনে বাড়ি বা দোকান ভাড়া নেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি যুগ যুগ ধরে চলমান একটি ব্যবস্থা। ভাড়া বাসাতেই সারাটি জীবন পার করে দিচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক। আজকের নাগরিক সভ্যতায় এটি খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা এবং বিধি-বিধান। ভাড়া দেওয়া-নেওয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শরীয়তে যেমন ভাড়াপ্রক্রিয়ার স্বীকৃতি রয়েছে তেমনি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এর বিধিবিধানসমূহ। কুরআন মাজীদ এবং হাদীস শরীফে ভাড়া তথা ইজারার বৈধতা এবং এর বিধান সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। ফিকাহবিদগণ সেগুলোর আলোকে ইজারার বৈধ ও অবৈধ পন্থা, বৈধতার শর্তাবলী এবং অবৈধতার ক্ষেত্রসমূহ ও এক্ষেত্রে করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে...

দানে বাড়ে ধন- ছাদিক আতফাল

  সে অনেক আগের কথা। আজ থেকে এক-দুই যুগ ?  না। এক-দুই শতাব্দী ?  তা-ও না! প্রায় দু ’ হাজার বছর আগের গল্প। সুদূর আরবের ইয়েমেন রাজ্যের রাজধানী  ‘ ছানআ ’ । তার থেকেও ছয় মাইল দূরে অবস্থিত  ‘ যারওয়ান ’ । সেথায় থাকতেন এক জমিদার। ধনেজনে তার কোনো কমতি ছিল না। অঢেল সম্পদের পাশাপাশি মনটাও ছিল তার বেশ উদার। ন্যায়পরায়ণ ও নিষ্ঠাবান এ জমিদার অত্যন্ত নেককার আল্লাহওয়ালা ছিলেন। আল্লাহর বান্দাদের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝেই যেন জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতেন। বাড়ীর অদূরেই ছিল জমিদারের বিশাল খামার। মাঠভরা ফসল আর গাছভরা ফল- সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিত। মনোরম বাগানের পাতানো মাচাগুলো যেন টসটসে আঙ্গুরের থোকায় নুইয়ে পড়ত। মাঠঘিরে খর্জুর বৃক্ষের সুবিশাল সারি গোটা ময়দানটাকে পাহারা দিত। আর মৌ-ভোমরের গুঞ্জরণ ও পাখ-পাখালির কলকাকলি যেন শেষই হতে চাইত না। জমিদারের মনে এতে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যেত। লোকেরাও খুশি হত ঢের। কারণ সে এবার তাদেরকে খুব দিতে পারবে। কোঁচড় ভরে দিতে পারবে। আর তারাও তার জন্য দুআ করবে। একেবারে প্রাণখুলে। এভাবে সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টা খুশি হয়ে পরের বছর আরো দেবেন। আর জমিদারও আল্লাহর বান্দাদের দ...