Wednesday, April 1, 2026

ফিরে দেখা ১৪৪৬ হিজরী- আমরা যাঁদের হারিয়েছি -মাওলানা মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম

 ১৪৪৬ হিজরী মুসলিম উম্মাহর বেদনাবিধুর আরেকটি সন আম্বিয়ায়ে কেরামের পুণ্যভূমি গাজায় চলমান ইতিহাসের বর্বরতম ইসরাইলী গণহত্যায় নির্বিচারে শহীদ হয়েছেন অসংখ্য নিরপরাধ মুসলিম শিশুনারী ও বীরযোদ্ধা কেবলমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে যাদের ওপর চলছে এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ তারা তাদের এই পবিত্র ভূখণ্ডের জন্য ‘একাই’ লড়াই করছেন এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছেন

আল্লাহ তাআলা তাঁদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের বদৌলতে পবিত্র এ ভূখণ্ডকে মুক্ত করুন জালেম ও তাদের দোসরদের উপযুক্ত শাস্তি দিন মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করুন তাঁদের অন্তরগুলোকে মিলিয়ে দিন তাঁদের অন্তরে ঈমান ও প্রজ্ঞার নূর দান করুন আমীন

শহীদানের এ কাফেলায় অজানা কত মুমিন মুজাহিদকে আমরা হারিয়েছিতা শুধু রাব্বুল আলামীনই জানেন আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবাইকে জান্নাতের উচু মাকাম নসীব করুন উমর রা.-এর মুখ নিঃসৃত ইতিহাসের সেই মহান দুটি বাক্য নিঃসন্দেহে এখানেও প্রযোজ্য

এক জিহাদের পর বিজয়ের সুসংবাদ শোনানোর সাথে সাথে শহীদদের নাম শোনানোর সময় উমর রা.-কে বলা হল

وآخرين يا أمير المؤمنين لا تَعرِفهم.

আরও অনেকে শহীদ হয়েছেনযাদের আপনি চেনেন না তখন উমর রা. কাঁদতে কাঁদতে বললেন

لا يضرهم أن لا يعرفهم عمرُ؛ لكن الله يعرفهم.

উমর তাদের চেনে নাতাতে কী! আল্লাহ তো তাদের চেনেন সহীহ ইবনে হিব্বানহাদীস ৪৭৫৬

এছাড়াও ১৪৪৬ হিজরীতে আমরা অনেক আকাবির আহলে ইলমকেও হারিয়েছি আল্লাহ তাআলা আমাদের মধ্যে তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি করে দিন আমীন

এ প্রবন্ধে ১৪৪৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন এমন কয়েকজন আহলে ইলমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পেশ করা হল

 

১৭ মুহাররম (২৪-৭-২০২৪)বুধবার

মাওলানা শাকিল আহমদ সীতাপুরী রাহ.

ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুরের তম্বুর শহরের প্রবীণ বুজুর্গ আলেম ১৯৭২ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দারুল উলূম দেওবন্দের সর্বজনপ্রিয় উস্তায ছিলেন দেওবন্দের শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররিসীন হযরত মাওলানা ফখরুল হাসান মুরাদাবাদী রাহ. (মৃ. ১৪০০ হি.) ও হযরত মাওলানা কারী তায়্যিব ছাহেব রাহ. (মৃ. ১৪০৩ হি.)-এর ঘনিষ্ঠ শাগরেদ ছিলেন তম্বুর শহরে ১৯৪৮ সালে তার জন্ম ১৯৬৯ সনে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন ১৯৭২ সনে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে উস্তায হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৮০ সনের ঘটনার পর তিনি দারুল উলূম ওয়াকফ-এ যুক্ত হন দুই বছর পর দারুল উলূম হায়দারাবাদে চলে যান পরবর্তীতে নিজ শহর তম্বুরের মাদরাসা যিয়াউল উলূমে মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউপির প্রসিদ্ধ মাদরাসা কারী সিদ্দীক আহমদ বান্দাভী রাহ.-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দারুল উলূমিল ইসলামিয়ায় সুদীর্ঘ ১১ বছর (১৯৯৫ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত) দ্বীনী খেদমত আঞ্জাম দেন দারুল উলূমিল ইসলামিয়ার মুখপত্র ‘ফিকরে ইসলামী’ পত্রিকায় ‘মাআরিফুল কিতাব’ শিরোনামে নিয়মিত তাফসীর বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কলাম লিখতেন তাঁর আলোচনা ও বক্তৃতায় অপরিসীম প্রভাব ছিল ‘গাওহারে ইলম জাওহারে সীরাত’, ‘দেখনা তাকরীর কী লাযযাত’ নামে তার বক্তৃতার একাধিক সংকলনও ছেপেছে

২৩ মুহাররম [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (২৯-৭-২০২৪)সোমবার

ড. মুহয়ী হিলাল ছারহান রাহ.

ইরাকের তিকরিত শহরের ইলমী ব্যক্তিত্ব পূর্ববর্তী মনীষীদের অনেক তুরাছের খেদমত করেছেন ইমাম ছদরুশ শহীদ রাহ. (৫৩৬ হি.)-এর ‘শরহু আদাবিল কাযী’ কিতাব তিনিই প্রথম তাহকীক করে ছাপিয়েছেন যা ইরাকের ওযারাতুল আওকাফ থেকে ১৯৭৭-৭৮ সনে চার খণ্ডে ছেপেছে আলাউদ্দীন ইবনুল হিন্নাঈ রাহ. (৯৭৯ হি.)-এর ‘তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ’ কিতাবেরও তিনি কাজ করেছেন ১৯৫৪ সনে কিতাবটি জনৈক মুহাক্কিক ভুলক্রমে তাশ কুবরি যাদা রাহ.-এর নামে ছাপিয়েছিল ড. মুহিউদ্দীন ছারহান রাহ. ১৯৮১ সালে ‘মাওরিদ’ পত্রিকায় (ভলিউম ১০৩-৪ যৌথ  সংখ্যা) এ বিষয়ে সংশোধনীমূলক একটি প্রবন্ধ লেখেন পরবর্তীতে তারই তাহকীকে মুআসসাসাতুদ দুহা বৈরুত থেকে কিতাবটি ছাপা হয়েছে এছাড়াও তিনি সত্তরের অধিক থিসিস ও গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধান করেন ১৩৫১ হি. / ১৯৩২ ঈ. সনে তিকরিত শহরে তাঁর জন্ম ইন্তেকালের সময় হিজরীবর্ষ হিসেবে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর

২৫ মুহাররম [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (৩১-৭-২০২৪)বুধবার

শহীদ ইসমাঈল বিন আবদুস সালাম হানিয়া রাহ.

গাজার আশ-শাতি শরণার্থীশিবিরে ১৯৬৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর চাচার সহায়তায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন হামাস সংগঠনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি এ কাফেলার সদস্য ছিলেন জীবনের বড় অংশ জুড়ে দখলদার কর্তৃক জেল-জুলুমহত্যা চেষ্টাহয়রানি ও নির্বাসনের মধ্যে কাটিয়েছেন ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এরপর ২০১৭ সালের ৬ মে হামাসের শূরা কাউন্সিল তাঁকে রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করে ৭ অক্টোবরের পর শায়খুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম দোহায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাক্ষাতের বিবরণে মুফতী তাকী উসমানী দা.বা. বলেন, “জনাব ইসমাঈল হানিয়া রাহ. হামাসের প্রধান ছিলেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে এবারের জিহাদ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার সাথে সাক্ষাৎ এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার লক্ষ্যে বান্দা কাতারের দোহায় উপস্থিত হই তিনি অত্যন্ত সজ্জনপ্রখর ধীশক্তি সম্পন্নবিনয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন পবিত্র কুরআনের হাফেয ছিলেন নির্বাচিত হয়ে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন তাঁর সাথে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার সাক্ষাৎ হয় আমার ধারণা বিশ্বাসে পরিণত হয়- এ কাফেলা দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্যে নয়কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই করে যাচ্ছে” (মাসিক আল বালাগডিসেম্বর ২০২৪)

৩১ জুলাই ২০২৪ তেহরান সফররত অবস্থায় ইসরাইল তাঁর ওপর বোমা হামলা করে  তিনি শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে অমরত্ব বরণ করেন

৭ সফর (১৩-৮-২০২৪)মঙ্গলবার

হযরত মাওলানা আনওয়ার বদখশানী রাহ.

জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউন করাচীর সুদীর্ঘ ৫০ বছরের উস্তায হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.মুফতী ওলী হাসান টোংকী রাহ.-সহ সমকালীন পাক-আফগানের বড় বড় মাশায়েখের শিষ্যত্বধন্য ছিলেন আফগানিস্তানের বদখশান প্রদেশে ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭১ সনে বিন্নুরী টাউন থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন দুই বছর করাচীর জামিয়া ফারুকিয়ায় তাদরীসের পর ১৯৭৪ সনে হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.-এর ডাকে ‘মাদরাসায়ে আরাবিয়া ইসলামিয়া’ (বর্তমান জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউন)-এ চলে আসেন ফারসী ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিতাব রচনা ও অনুবাদ করেন নেসাবে তালীমের কিতাবগুলো সহজায়নের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ও মনোযোগ ছিল এবং এ অঙ্গনে তিনি অনেক খেদমতও আঞ্জাম দিয়েছেন

১১ সফর (১৭-৮-২০২৪)শনিবার

হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব সাহারানপুরী রাহ.

মাযাহেরুল উলূম সাহারানপুর মাদরাসার সর্বজনশ্রদ্ধেয় উস্তায শায়খুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ.-এর শাগরেদ ছিলেন ১৩৮৬ হিজরীতে মাযাহেরুল উলূম থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন পরের বছর ১৩৮৭ হিজরী থেকেই তিনি মাযাহেরুল উলূম মাদরাসায় খেদমতে নিযুক্ত হন ১৪২৩ হিজরী থেকে মাযাহেরুল উলূম (ওয়াকফ) সাহারানপুরের সদরুল মুদাররিসীন ছিলেন ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ৭৬ বছর হয়েছিল

২২ সফর (২৮-৮-২০২৪)বুধবার

হযরত মাওলানা কাযী আবদুর রশীদ রাহ.

শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা সালিমুল্লাহ খান ছাহেব রাহ. ও মুফতী নিযামুদ্দীন শামযাঈ রাহ.-এর বিশিষ্ট শাগরিদ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ‘নাযেমে আলা’ ছিলেন  ১৯৫৮ সনে রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাঁর শোকবার্তায় লেখেন

وفاق المدارس العربیہ پنجاب کے ناظم مجلس عاملہ کے رکن رکین حضرت مولانا قاضی عبد الرشید کی وفات ناگہانی خبر سے سخت صدمہ ہوا، ہم اپنے ایک متحرک فعال اور مدبر بازو سے محروم ہوگئے۔ انا للہ وانا الیہ راجعون۔  ان کی ہمہ جہت خدمات کا بہترین صلہ جنت میں عطا فرمائیں۔

১৫ রবিউল আওয়াল (১৯-৯-২০২৪)বৃহস্পতিবার

হযরত মাওলানা সায়্যিদ শাহ তাকীউদ্দীন ফেরদাউসী নদভী রাহ.

হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. ও রাবে হাসানী নদভী রাহ.-এর শিষ্য নদওয়াতুল উলামা লাখনৌর শূরা সদস্য ছিলেন ১৯৪২ সালে পাটনার মুনীর শরীফে তিনি জন্মগ্রহণ করেন প্রাথমিক শিক্ষা পিতা সায়্যিদ শাহ এনায়েতুল্লাহ ফেরদাউসী ও চাচা শাহ মুরাদুল্লাহ রাহ.-এর নিকট হাসিল করে দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামায় যান ১৯৬১ সনে দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা থেকে ফারেগ হন তাঁর জীবনের বড় অংশ হিজায ও মিশরেই কেটেছে মিশরের শায়েখ আবু যাহরা ও শায়েখ শাওকী দেঈফ-এরও সোহবতধন্য ছিলেন ইন্তেকালের আগে তিনি ‘হায়াতী’ নামে আত্মজীবনী লিখেছেন

উল্লেখ্যশায়খ তাকীউদ্দীন মাযাহেরী নদভী হাফিযাহুল্লাহ আর তাকীউদ্দীন ফেরদাউসী নদভী রাহ. দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি

১৪ রবিউল আখির [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (১৭-১০-২০২৪)বৃহস্পতিবার

বীর মুজাহিদ শহীদ ইয়াহইয়া সিনওয়ার রাহ.

ফিলিস্তিনী প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান প্রতীক এবং ইসরাইলী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রামের একজন কিংবদন্তি নেতা ১৯৬২ সালে গাজার খান ইউনিসে দখলদারিত্বের কঠিন পরিস্থিতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ বছর বয়সেই ইসরাইলের কারাগারে গিয়েছেন জীবনের ২৩ বছর তিনি শত্রুর জেলখানায় কাটিয়েছেন কিন্তু তিনি জেলখানাকে ইবাদতখানা ও দরসগাহে পরিণত করেছিলেন সেখানে থেকেই দ্বীন পড়েছেন সেখানে থেকেই বই লিখেছেন সেখানে থেকেই গড়ে তুলেছেন চিন্তা ও আদর্শের অনেক সহযোদ্ধা ২০১১ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান

৩১ জুলাই ২০২৪ ইসমাঈল হানিয়ার শাহাদাতের পর ৬ আগস্ট তিনি হামাসের প্রধান নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন কিন্তু তিনি সাধারণ সৈনিকের মতোই লড়ে গেছেন অঙ্গহানি ও আহত হওয়া সত্ত্বেও যে বীরত্ব দেখিয়ে গেছেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আঘাতে জর্জরিত বাহুভাঙা হাঁটুহাতের ভাঙা আঙুলে লাঠি নিয়ে ইসরাইলী ড্রোনের ওপর সর্বশেষ যে হামলা করেনসে দৃশ্য যুগ যুগ ধরে মজলুমানের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবে মাজলুমদের টিকে থাকার অনুপ্রেরণা দেবে নিষ্পেষিত মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস জোগাবে

২৭ রবিউল আখির (৩১-১০-২০২৪)বৃহস্পতিবার

মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মাদ শফী রাহ.

বড়কাটারা (হুসাইনিয়া আশরাফুল উলূম) মাদরাসার শায়খুল হাদীস ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৪৩ বছর দরস-তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছিলেন ১৯৫৭ সালে কুমিল্লা বরুড়া থানাধীন পেরুল গ্রামে তাঁর জন্ম তাঁর বাবা মরহুম মাওলানা আব্দুল গনী রাহ. এবং দাদা মাওলানা আশরাফ আলী রাহ. উভয়ে শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ.-এর স্নেহধন্য শাগরেদ ছিলেন ১৯৭৮ সালে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব রাহ. (১৪০২হি.)শায়খুল হাদীস সূফী আব্দুল কাইয়ূম রাহ. (১৪০১হি.),  মাওলানা মুহাম্মদ আলী রাহ. (১৪০৪হি.) এবং হামেদ ছাহেব রাহ. (১৪০৭হি.) প্রমুখ ছিলেন তাঁর উস্তায ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড়কাটারা মাদরাসায় উস্তায হিসেবে নিযুক্ত হন মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ প্রতিষ্ঠানে দ্বীনী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান

১৯ জুমাদাল আখিরাহ (২২-১২-২০২৪)রবিবার

আল্লামা কমরুদ্দীন গওরখপুরী রাহ.

দারুল উলূম দেওবন্দের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি উস্তায ১৯৩৮ সালে ভারতের গওরখপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালে দারুল উলূম দেওবন্দে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা সমাপ্ত হয় দিল্লির মাদরাসায়ে আবদুর রব-এ তালীম-তাদরীসের জীবন শুরু হয় ১৩৮৬ হিজরীতে (১৯৬৬ সালে) হযরত মাওলানা ইবরাহীম বালিয়াভী রাহ. তাঁকে দারুল উলূম দেওবন্দে নিয়ে আসেন হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা শাহ ওসীউল্লাহ ফতেহপুরী রাহ.-এর হাতে বাইআত ছিলেন তাঁর ওফাতের পর মুহীউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রাহ.-এর হাতে বাইআত হন এবং খেলাফতপ্রাপ্ত হন দেওবন্দে তাঁর আসাতেযায়ে কেরামের মধ্যে ছিলেন সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ. (১৩৭৭ হি.)মাওলানা ফখরুদ্দীন আহমাদ মুরাদাবাদী রাহ. (১৩৯২ হি.)মাওলানা ইবরাহীম বালিয়াভী রাহ. (১৩৮৬ হি.) ও ফখরুল হাসান মুরাদাবাদী রাহ. (১৪০০ হি.)

২৯ জুমাদাল আখিরাহ (১-১-২০২৫) বুধবার

মাওলানা শহীদুল্লাহ বিন আরদুল্লাহ রাহ.

জুমাদাল আখিরার শেষ দিন ২৯ তারিখে চলে গেছেন হযরত মাওলানা মুফতী ওলী হাসান টোংকী রাহ. ও মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী রাহ.-এর শাগরেদ মুন্সীগঞ্জের মাওলানা শহীদুল্লাহ বিন আরদুল্লাহ রাহ. ১৯৬১ সনে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৪-১৯৮৫ সনে জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ থেকে তাকমীলে হাদীস সমাপ্ত করেন অতঃপর ১৯৮৫-১৯৮৭ সনে জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউনে ইফতা এবং ১৯৮৭-১৯৯০ পর্যন্ত উলূমুল হাদীস বিভাগে অধ্যয়ন করেন ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর বর্ণনাকৃত হাদীসের একটি সংকলন তৈরি করেনযাতে কিতাবুল আছার এবং ‘মাসানীদুল ইমাম আবী হানীফা’ শিরোনামে সংকলিত কিতাবাদির বর্ণনাগুলোর বাইরে মুহাদ্দিসীনের কিতাবাদিতে ছড়িয়ে থাকা বর্ণনাগুলো জমা করা হয়েছে হযরত নুমানী রাহ. সংকলনটির মূল্যায়নে লেখেন

وهذا المختصر عَلَقٌ نفيس، ينبغي للحنفية أن يحفظوه ويعتنوه درسا وتحقيقا، وشرحاً وتعليقاً.

চুয়াডাঙ্গার দারুল উলূম বুজরুক গড়গড়ী মাদরাসায়  (স্থাপিত ১৯৬৬ ঈ.) কয়েক বছর খেদমত করেন ২০০৩-২০২২ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ মারকায মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসায় মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন

https://www.alkawsar.com/bn/article/3807/

৬ রজব [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (৬-১-২০২৫)সোমবার

শায়েখ আবু ইয়াসির সারিয়া রিফায়ী রাহ.

সিরিয়ার বিশিষ্ট দাঈ আলেম ১৩৬৭ হি./ ১৯৪৮ ঈ. সনে দামেশকের আলকনাওয়াত পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তাঁর পিতা শায়েখ আবদুল কারীম রিফায়ী রাহ. সর্বজনশ্রদ্ধেয় দাঈ আলেম দামেশকের খালিদ ইবনে ওয়ালীদ স্ট্রিটে অবস্থিত জামে যায়েদ ইবনে ছাবেত মসজিদে ইমাম ও খতীব ছিলেন সমকালীন জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সাথে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতেন ১৯৮০ সনে হাফেজ আলআসাদের শাসনামলে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন ১৯৯৩ সনে দামেশকে ফিরে আসলে পুনরায় জামে যায়েদ ইবনে ছাবেত মসজিদে খতীব পদে যুক্ত হন ২০১১ সালে বাশার আলআসাদের শাসনের বিরুদ্ধে সিরিয়া বিপ্লব শুরু হওয়ার পর তিনি বিপ্লবকে সমর্থন দিয়েছিলেন ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের  মতো দেশত্যাগে বাধ্য হন প্রথমে কায়রোতে এরপর ২০১৩ সালে ইস্তাম্বুলে চলে যান মৃত্যু পর্যন্ত ইস্তাম্বুলেই দ্বীনী ও দাওয়াতী কার্যক্রম চালিয়ে যান তাঁর লেখা ‘মুযাক্কিরাতুন ফী যামানিছ ছাওরাহ’ (বিপ্লবের সময়ের স্মৃতিকথা) পাঠক মহলে সমাদৃত

৭ রজব (৮-১-২০২৫)বুধবার

মাওলানা মুকাদ্দাস আলী রাহ.

৭ রজব সিলেট জকিগঞ্জের সর্বজনশ্রদ্ধেয় বুযুর্গ আলেম মাওলানা মুকাদ্দাস আলী রাহ. আখেরাতের সফরে চলে যান আনুমানিক ১৩৫২ হিজরিতে (১৯৩৩ ঈ.) জকিগঞ্জের সোনাসার এলাকার বারগাত্তা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী রাহ.হযরত মাওলানা ইবরাহীম বলিয়াভী রাহ. ও কারী তায়্যিব ছাহেব রাহ. প্রমুখ আকাবিরে দেওবন্দের শাগরেদ ছিলেন ১৩৭৭ হিজরীতে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন ১৩৭৯ হি. থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জকিগঞ্জের মুন্সিবাজার মাদরাসায় সহীহ বুখারীর দরস দিয়ে আসছিলেন প্রায় ৬৭ বছর তিনি সহীহ বুখারীর দরস প্রদান করেছেন ইসলাহ ও তাযকিয়া-তরবিয়তের ময়দানে জনসাধারণ পর্যায়েও তাঁর ব্যাপক খেদমত ছিল আবদুল কারীম শায়খে কৌড়িয়া রাহ. (১৯০১-২০০১ ঈ.)-এর খলীফা ছিলেন

৯ রজব (১০-১-২০২৫)জুমাবার

মাওলানা মুফতী ইউসুফ হাসান রাহ.

৯ রজব চলে গেছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট মসজিদের প্রাক্তন খতীব মাওলানা ইউসুফ হাসান রাহ. বাইতুল ফালাহ মোহাম্মদপুর মাদরাসার শায়খুল হাদীস ছিলেন তিনি বরেণ্য আলেম মাওলানা ইবরাহীম হাসান ছাহেবের বড় ভাই

১২ রজব (১৩-১-২০২৫)সোমবার

মাওলানা আবদুন নূর রাহ.

সিলেট কাসিমুল উলূম দরগাহ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত আকবর আলী রাহ. (দরগাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা)-এর খলীফা ছিলেন আকবর আলী রাহ. ছিলেন কারী তায়্যিব ছাহেব রাহ.-এর খলীফাদের একজন ১৪০২ হিজরীতে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফারেগ হয়ে সিলেটের জামিয়া তাওয়াক্কুলিয়াজামিয়া ইসলামিয়া কৌড়িয়াসহ কয়েকটি মাদরাসায় খেদমত আঞ্জাম দেন ১৪২৪ হিজরী থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত কাসিমুল উলূম দরগাহ মাদরাসায় খেদমত করে যান

১৪ রজব (১৫-১-২০২৫)বুধবার

মাওলানা সায়্যিদ জাফর মাসউদ হাসানী রাহ.

১৪ রজব ওয়াযেহ রশীদ হাসানী নদভী রাহ. (১৪৪০ হি.)-এর ছাহেবযাদা মাওলানা সায়্যেদ জাফর মাসউদ হাসানী রাহ. ইন্তেকাল করেন ওয়াযেহ রশীদ হাসানী হলেন আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর ভাতিজা এবং রাবে হাসানী নদভী রাহ.-এর ছোট ভাই ২০২৩ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার ‘নাযেরে আম’ (তত্ত্বাবধায়ক) ছিলেন হযরত আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর তুরাছের সফল আরবী অনুবাদকও ছিলেন 

১ শাবান (১-২-২০২৫)শনিবার

মাওলানা মুফীযুদ্দীন রাহ.

শাবান মাসের প্রথম দিনে চলে যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.-এর ঘনিষ্ঠ শাগরেদ মাওলানা মুফীযুদ্দীন রাহ. মোমেনশাহী জেলার গফরগাঁও থানাধীন কদম রসুলপুর গ্রামে আনুমানিক ১৯৪০ সনে তাঁর জন্ম ১৩৮৯-৯০ হিজরী শিক্ষাবর্ষে জামিয়া ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউনে দ্বিতীয়বার দাওরায়ে তাকমীল করেন মুফতী ওলী হাসান টোংকী রাহ.মাওলানা ইদরীস মিরাঠী রাহ.-এরও শাগরেদ ছিলেন তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ায় অধ্যয়নকালে হযরত মাওলানা আতহার আলী রাহ.-এর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন ১৯৭৪ সনে হযরত আতহার আলী রাহ.-এর হুকুমে ময়মনসিংহের জামিয়া ইসলামিয়ায় খেদমতে নিযুক্ত হন ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৭ প্রায় দীর্ঘ দুই যুগ এ প্রতিষ্ঠানে ইহতিমাম ও তালীমাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আঞ্জাম দেন এবং দীর্ঘসময় সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবের দরস প্রদান করেন ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত নারাছুগঞ্জে এক মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এই সময়ে একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি মাদরাসার দায়িত্ব পালন করেন এবং মোমেনশাহী শিকারীকান্দা জামিয়াতুস সুন্নাহ মুযাহিরুল উলূম মাদরাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সহীহ বুখারীর দরসও প্রদান করেন অতঃপর ২০০৭ থেকে আমৃত্যু শিকারীকান্দা মাদরাসাতে শায়খুল হাদীস হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন

২৮ শাবান (২৮-২-২০২৫)জুমাবার

শহীদ মাওলানা হামীদুল হক হক্কানী রাহ.

পাকিস্তানের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বআলেম ও রাজনীতিবিদ মাওলানা শহীদ সামীউল হক রাহ. (১৪৪০ হি.) এর ছাহেবযাদা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাক্কানিয়া আকোরাখট্টক-এর প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল হাদাীস মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহ. (১৪০৯ হি.) এর নাতি তিনি দারুল উলূম আকোরাখট্টক মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম ছিলেন ২০০২ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ২০১৮ সালে মাওলানা সামীউল হক রাহ. এর শাহাদাতের পর তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান নিযুক্ত হন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বাদ জুমা দারুল উলূম হক্কানিয়ায় একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিনি শহীদ হন

৩ শাওয়াল (২-৪-২০২৫)রবিবার

মাওলানা মুযযাম্মিল হক রায়হান রাহ.

শাওয়ালের শুরুতে ইন্তেকাল করেন উত্তরবঙ্গের হযরত মাওলানা মুযযাম্মিল হক রায়হান রাহ. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের খেড়িহরের উস্তাযদের মধ্যে তিনি একজন তাঁর কাছে তিনি হেদায়া আওয়াল পড়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার অন্তর্গত মাস্টারপাড়ার অধিবাসী তাঁর পিতা মাওলানা আবদুশ শাফী রাহ. ছিলেন শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ. ও মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.-এর শাগরেদ কুড়িগ্রামের সমাজ সংস্কারে পিতা-পুত্রের বিশেষ অবদানের কথা লোকমুখে স্বীকৃত ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৭৫ বছর

৫ শাওয়াল (৪-৪-২০২৫)জুমাবার

শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী রাহ.

৫ শাওয়াল জুমাবার হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ছোট ছাহেবযাদা মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী রাহ. ইন্তেকাল করেন করাচীর জামিয়া ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউনে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেছিলেন

কিছুকাল লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়ায় শিক্ষকতা করেন এরপর জামিয়া নূরিয়ায় খেদমতে নিযুক্ত হন আগস্ট ২০১৫ ঈ. থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নূরিয়া মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন

নভেম্বর ২০১৪ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরের দায়িত্ব পালন করে গেছেন ইসলাম ও দেশ বিরোধী ইস্যুগুলোতে তিনি সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন

২৭ শাওয়াল [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (২৫-৪-২৫)জুমাবার

শহীদ ড. ফায়েক নাঊক রাহ.

গাজার আলআকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন দখলদারদের হামলায় হাজারও শহীদানের কাফেলায় তিনিও যুক্ত হন

২৬ শাওয়াল (২৫-৪-২৫)জুমাবার

মাওলানা আবদুল মান্নান দানিশ রাহ.

২৬ শাওয়াল ইন্তেকাল করেন আলজামিআতুল ইসলামিয়া কাসিমুল উলূম পটিয়া মাদরাসার (স্থাপিত : ১৯৩৮ ঈ.) স্বনামধন্য প্রবীণ উস্তায হযরত মাওলানা আবদুল মান্নন দানিশ রাহ. ৪৩ বছর যাবৎ তিনি পটিয়া মাদরাসায় খেদমত করে আসছিলেন ১৯৮৩ সনে পটিয়ার হাজ্বী ছাহেব রাহ.-এর আহ্বানে পটিয়ায় খেদমতে যুক্ত হয়েছিলেন হযরত মাওলানা শাহ হারুন বাবুনগরী (১৪০৬ হি.)শায়খুল হাদীস উবায়দুর রহমান রাহ. ও মাওলানা ইয়ার মুহাম্মাদ রাহ. প্রমুখ তাঁর উস্তাযদের অন্যতম ‘আফকারে  দানিশ’ নামে তিনি একটি (কাব্যগ্রন্থ) রচনা করেন ‘লামিয়াতুল  মুজিযাত’, ‘তা‘লীমুল মুতাআল্লিম’সহ নেসাবে তালীমের কিছু কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থও রচনা করেন তিনি ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স আনুমানিক ৮৬ বছর ছিল

২৭ শাওয়াল (২৬-৪-২০২৫)শনিবার

মাওলানা আমীনুল হক রাহ.

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ২৭ শাওয়াল পটিয়া মাদরাসার আরেকজন সিনিয়র উস্তায হযরত মাওলানা আমীনুল হক রাহ. ইন্তেকাল করেন তিনি পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মুফতী আযীযুল হক রাহ. (মৃ. ১৩৮০ হি.)-এর সরাসরি শাগরেদ ছিলেন বলে জানা যায় ১৩৮৩ সনে জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউনে দ্বিতীয়বার দাওরায়ে হাদীস পড়েন হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ. ও মুফতী ওলী হাসান টোংকী রাহ.-এরও শাগরেদ ছিলেন তিনি ১৩৮৪ হিজরী থেকে পটিয়া মাদরাসায় খেদমতে যুক্ত হন ৬০ বছরের অধিককাল তিনি জামিয়া পটিয়ায় তাদরীস এবং পরবর্তীতে সদরে মুহতামিমের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন

২৯ শাওয়াল (২৮-৪-২০২৫)সোমবার

শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা সায়্যেদ মুহাম্মাদ আকিল রাহ.

শায়খুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ.-এর খাস শাগরেদখলীফা ও জামাতা ১৩৮৬ হিজরীতে (১৯৬৭ ঈ.)  তিনি মাযাহেরুল উলূম সাহারানপুরের উস্তাযুল হাদীস হিসেবে নিযুক্ত হন ১৩৯০ হিজরী থেকে ৫০ বছরেরও অধিককাল তিনি সাহারানপুরের ‘সদরে মুদাররিস’ ছিলেন

৪ যিলকদ (৩-৫-২০২৫)শনিবার (জুমাবার দিবাগত রাত ১টায়)

আল্লামা সুলতান যওক নদভী রাহ.

৪ যিলকদ নমুনায়ে আকাবির আল্লামা সুলতান যওক নদভী রাহ. ইন্তেকাল করেন তিনি তাঁর যিন্দেগীতে আকাবিরের বড় এক কাফেলাকে পেয়েছেন যাদের কারো তিনি শাগরেদ ছিলেনকারো ছিলেন আস্থা ও স্নেহের পাত্র ১৩৭২ হিজরী থেকে ১৩৭৭ হিজরী পর্যন্ত (শরহে বেকায়া থেকে তাকমীল) পটিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন এরপর মুফতী (আযীযুল হক)  ছাহেব রাহ. (১৩৮০ হি.) ও অন্যান্য মুরব্বির নেগরানীতে কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়াআযীযুল উলূম বাবুনগরসহ কয়েকটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন শিক্ষকতার বড় একটি সময় তিনি পটিয়াতেই কাটিয়েছেন ১৪০৫ হিজরীতে ‘দারুল মাআরিফ আলইসলামিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন বাকি জীবন তাঁর স্বপ্নের এ প্রতিষ্ঠানেই অতিবাহিত করেন বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষকতাকালীন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রাহ. তাঁর  কাছে খুসূসীভাবে ইস্তেফাদা করেছেন হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) দামাত বারাকাতুহুম ও ড. আ. ফ. ম. খালেদ ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম তাঁর বিশিষ্ট শাগরেদদের অগ্রগণ্য

নুকূশে যিন্দেগী’ নামে হযরত রাহ. আত্মজীবনী সংকলন করে গেছেন যা বাংলা ভাষায় ‘আমার জীবন কথা’ নামে ছেপেছে

৫ যিলকদ (৪-৫-২০২৫)রবিবার

হযরত মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ বেস্তানবী রাহ.

যিলকদের ৫ তারিখে চলে যান দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরা সদস্যমহারাষ্ট্রের সুপ্রসিদ্ধ মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইশাআতুল উলূম আক্কেলকুয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হযরত মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ বেস্তানবী রাহ. কুরআন শিক্ষার প্রচার প্রসারে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন মকতব প্রতিষ্ঠামসজিদ নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণে তাঁর বিশেষ অবদান স্মরণীয় থাকবে ১৪১৯ হিজরী মোতাবেক ১৯৯৮ সন থেকে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের শূরা সদস্য ছিলেন

১৩ যিলকদ (১২-৫-২০২৫)সোমবার

শায়খুল হাদীস মুফতী মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ রাহ.

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা পাকিস্তানের সাবেক নাযেমে ইমতিহান তিনি মুফতী মাহমুদ রাহ.ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.ইদ্রীস মিরাঠী রাহ. এবং সলিমুল্লাহ খান ছাহেব রাহ. প্রমুখ মহান ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন মুফতী মাহমুদ ছাহেব রাহ. ও হযরত বিন্নুরী রাহ.-এর খাছ শাগরেদ ছিলেন দীর্ঘকাল মুলতানের জামিআ কাসিমুল উলূমে হাদীসের দরস প্রদান করেছেন

১৯ যিলকদ (১৮-৫-২০২৫)রবিবার

মাওলানা আহমদ আবদুল্লাহ চৌধুরী রাহ.

হবিগঞ্জ জেলার বুযুর্গ আলেমহাজারো আলেম তালেবে ইলমের উস্তায হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার অন্তর্গত হিয়ালা গ্রামে ১৯৬৭ সনে তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সনে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন হবিগঞ্জ কাসিমুল উলূম মাদরাসায় দীর্ঘ ১২ বছর শিক্ষকতা করেন (২০০৩-২০০৭) বি. বাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম মাদরাসায় খেদমতে ছিলেন জামেউল উলূম (মিরপুর-১৪) মাদরাসায় দীর্ঘ ১৫ বছর (২০০৭-২০২২ ঈ.) তাদরীসের খেদমতে ছিলেন এবং নায়েবে ইহতিমামের দায়িত্ব পালন করেছেন

২৩ যিলকদ (২২-৫-২০২৫)বৃহস্পতিবার

মাওলানা মাহমুদুল হাসান রাহ.

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জের লৎসর গ্রামের প্রবীণ বুযুর্গ আলেম মাওলানা মাহমুদুল হাসান বিন মওলভী আবদুল আওয়াল রাহ. যিলকদের ২৩ তারিখে ইন্তেকাল করেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জিরি মাদরাসার প্রথমসারির আকাবিরদের তিনি পেয়েছিলেন জিরি মাদরাসার মুরব্বিগণ বিশেষত শায়খুল হাদীস ও (দ্বিতীয়) মুহতামিম মুফতী নূরুল হক ছাহেব রাহ. (১৪০৮ হি.) তাঁকে অনেক স্নেহ করতেন জিরি মাদরাসায় তিনি মুফতী আবদুস সালাম চাটগামী রাহ. ও ওলামাবাজারের হযরত মাওলানা নূরুল ইসলাম আদীব হুযুর দামাত বারাকাতুহুমের সহপাঠী ছিলেন তাকমীল জামাত সমাপ্ত করার পর প্রায় দুই বছর জিরি মাদরাসায় উস্তাযদের কাছে ছিলেন

তিনি মারকাযুদ দাওয়াহর মুহতারাম মুদীর হযরত মাওলানা মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম ও আমীনুত তালীম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেবের বড় মামা


https://www.alkawsar.com/bn/article/3821/