দ্বিতীয় মঞ্জিল (রবিবার)
৪৯) আয় আল্লাহ! আমাকে সাহায্য কর, আমার বিপক্ষকে সাহায্য করিও না। আমাকে জয়ী কর আমার বিপক্ষকে জয়ী করিও না। আমার ব্যবস্থা গ্রহণ করিও, আমার বিপক্ষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিও না। আমাকে হেদায়েত দান কর এবং হেদায়েতের পথ আমার জন্য সহজ করিয়া দাও। যে আমার উপর অত্যাচার করিতে আসে তাহার মোকাবেলায় তুমি সহায়তা কর। আয় আল্লাহ! আমাকে এমন বানাইয়া দাও যেন আমি তোমার যিকির খুব বেশী করিতে পারি, তোমার শোকর খুব বেশী করিতে পারি, তোমার ভয় যেন খুব বেশী করিতে পারি, তোমার সামনে সর্বদা নত ও তোমাতেই যেন রত থাকি। তোমার সামনে সর্বদা কান্নাকাটি করিতে থাকি, তোমার দিকে রুজু থাকি। আয় আল্লাহ! আমার তওবা কবুল কর, আমার গুনাহ্ ধুইয়া ফেল, আমার দু’আ কবুল কর এবং মজবুত করিয়া দাও আমার দলীল (অর্থাৎ কালেমা) এবং আমার জবান ঠিক করিয়া দাও, আমার দিলকে হেদায়েতের কথা বুঝাইয়া দাও এবং দুর করিয়া দাও আমার অন্তরের ময়লা।
৫০) আয় আল্লাহ! আমাদিগকে ক্ষমা করিয়া দাও, আমাদের উপর রহমাত নাযিল কর। তুমি আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাক, আমাগিদকে বেহেশতে স্থান দিও এবং নাজাত দিও দোযখ হইতে এবং আমাদের সকল অবস্থা ভাল করিয়া দাও।
৫১) আয় আল্লাহ! মিলাইয়া দাও আমাদের দিলকে এবং আমাদের পারস্পারিক মনোমালিন্য দূর করিয়া দাও। আমাদিগকে দেখাইয়া দাও শান্তির পথ! আমাদিগকে অন্ধকার হইতে আলোর দিকে নিয়া যাও এবং গুপ্ত বা প্রকাশ্য বেহায়াপনা হইতে আমাদিগকে দূরে রাখ এবং বরকত দান কর আমাদের চক্ষু, কর্ন, অন্তঃকরণ, স্ত্রী, সন্তানাদি সব জিনিসে এবং আমাদিগকে তোমার নিকট তওবা করিবার তওফিক দান কর; নিশ্চয় তুমি অত্যন্ত দয়ালু, তুমি তওবার তওফিক দানকারী আর তুমি আমাদিগকে তোমার নেয়ামত সমূহের শোকর আদায়কারী বানাও এবং তোমার নেয়ামতের উপর তোমার প্রশংসাকারী ও তোমার নেয়ামত পাইবার উপযুক্ত আমাদের বানাও এবং তোমার নেয়ামত পূর্নরূপে আমাদিগকে দান কর।
৫২) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই প্রার্থনা করি যে, আমি যেন দ্বীনের উপর মজবুত থাকিতে পারি এবং পূর্ন হেদায়েতের উপর আমল করিতে পারি এবং তোমার নেয়ামত সমূহের শোকর আদায় করিতে পারি এবং তোমার এবাদত খুবই ভালরূপে করিতে পারি আর তোমার নিকট চাই খাঁটি জবান, হৃদয় এবং স্বভাব কোমল এবং চাই সেই সকল ভাল জিনিস যাহা তুমি জান এবং তোমার নিকট মাফ চাই সেই সকল গুনাহ্ হইতে যাহা তুমি জান; তুমি ভাল রূপে জান সকল গুপ্ত বিষয়।
৫৩) আয় আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ্ মাফ করিয়া দাও, যাহা কিছু পূর্বে করিয়াছি বা পরে করিয়াছি, গুপ্তভাবে করিয়াছি বা প্রকাশ্যভাবে করিয়াছি এবং যাহা তুমি আমার চেয়ে বেশী জান।
৫৪)
আয় আল্লাহ! আমাদিগকে দান কর তোমার ভয় সেই পরিমানে যাহা আমাদিগকে তোমার নাফরমানী হইতে বিরত রাখে এবং তোমার এবাদত–বন্দেগী ও ফরমারদারী সেই পরিমানে দান কর, যাহা আমাদিগকে বেহেশতে নিয়া পৌঁছায় এবং বিশ্বাস সেই পরিমানে দান কর, যাহাতে দুনিয়ার বালা–মুসিবত ও বিপদাপদ সহজ হইয়া যায় এবং আমাদিগকে ভোগ করিতে দাও। আমাদের শ্রবণ শক্তি, দর্শনশক্তি এবং অন্যান্য শক্তিগুলি যাবৎ আমাদিগকে জীবিত রাখ এবং ঐ সব শক্তি দ্বারা এমন এমন সৎ ছেলছেলাহ জারী করার তওফিক দাও, যাহা আমার পরে ও বাকী থাকে এবং প্রতিশোধ লইও উহাদের হইতে, যাহারা আমাদের উপর অন্যায় অত্যাচার করে এবং যাহারা আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করে তাহাদের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা করিও এবং আসিতে দিও না আমাদের দ্বীনের উপর কোন বিপদ এবং দুনিয়াকে আমাদের আসল মকছুদ বা এলম জ্ঞানের শেষ সীমান্ত উদ্দেশ্য বা চরম কাম্য ও আকাঙ্খার বস্তু হইতে দিও না এবং এমন কাহারো অধীনস্থ আমাদিগকে করিও না যে আমাদের উপর সদয় না হয়।
৫৫) আয় আল্লাহ! আমাদিগকে (সম্মানিত জিনিসসমূহ বাড়াইয়া দিও; কমাইয়া দিও না। আমাদিগকে সম্মান দান করিও; অপমান করিও না। আমাদিগকে দান করিও; মাহরূম করিও না। আয় আল্লাহ! আমাদিগকে উপরস্থ করিয়া রাখিও; অন্যকে আমাদের উপরস্থ করিও না। আয় আল্লাহ! আমাদিগকে সন্তুষ্ট রাখ এবং তুমি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকিও।
৫৬) আয় আল্লাহ! আমাদের হৃদয়ে হেদায়েত ও সৎ পথের কথা নিক্ষেপ কর।
৫৭) আয় আল্লাহ! আমাকে রক্ষা কর– আমার নফসের (কুপ্রবৃত্তির) অনিষ্ট হইতে এবং সদা সৎপথে থাকার সাহস ও উৎসাহ দান কর।
৫৮) আমি আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি ও সুখ–স্বচ্ছন্দতা প্রার্থনা করি।
৫৯) হে খোদা! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি– আমি যেন ভাল কাজ করিতে পারি ও মন্দ কাজ ছাড়িতে পারি এবং গরীবদেরে যেন ভালবাসি এবং তুমি আমাকে মাফ করিয়া দাও এবং আমার উপর রহমত নাযিল করিও এবং যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর বালা মুসিবত নাযিল কর তখন বালার ভিতরে পড়ার পূর্বে আমাকে উঠাইয়া লইও এবং আমি তোমার নিকট মহব্বত জন্মায় সে কাজের মহব্বত চাই।
৬০) আয় আল্লাহ! তোমার মহব্বত আমার জীবনের চেয়ে এবং ধন–সম্পদ স্ত্রী–পুত্র ও ঠান্ডা পানি হইতেও অধিক প্রিয় বানাইয়া দাও
৬১) আয় আল্লাহ! আমাকে তোমার মহববত আমার জন্য কাজে আসে তোমার নিকট তাহার মহব্বত ও দান কর। আয় আল্লাহ! আমার প্রিয় ও কাম্য বস্তু যাহা তুমি আমাকে দান করিয়াছ তা দ্বারা যেন আমি তোমার নিকট প্রিয় হওয়ার পথে সাহায্য পাই–এরূপ করিয়া দাও এবং যাহা কিছু আমার কাম্য বস্তু তুমি আমাকে দান কর নাই– আমার সময়, শরীর ও মনকে উহাতে বেষ্টিত ও লিপ্ত কর নাই, সেই নিলিপ্ত সময় শরীর ও মনের অংশটুকু যেন আমি তোমার প্রিয় হওয়ার পথেই ব্যয় করিতে পারি– এরূপ করিয়া দাও।
৬২) হে দিলের মালিক খোদা! দিলকে ঘুরানো–ফেরানো তোমারই কাজ; আমার দিলকে মজবুত ও দৃঢ় রাখ– তোমার ধর্ম পথে।
৬৩) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন মজবুত ঈমান চাই যাহা অটল এবং এমন নেয়ামত চাই যাহা অফুরন্ত এবং আমাদের নবী মুহম্মদ মুস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি আসাল্লামের সঙ্গ লাভ চাই বেহেশতের সর্বোচ্চ স্তরে যে বেহেশত চিরস্থায়ী।
৬৪) আয় আল্লাহ! আমি স্বাস্থ্য চাই ঈমানের সঙ্গে, ঈমান চাই ভাল স্বভাবের সঙ্গে এবং দুনিয়ার এমন কৃতকার্যতা চাই যাহার পর আখেরাতের কৃতকার্যতা পাই এবং রহমাত স্বাস্থ্য ও সুখ শান্তি চাই এবং তুমি আমাকে মাফ করিয়া দাও এবং আমার উপর সন্তুষ্ট থাক ইহাই আমি চাই।
৬৫) আয় আল্লাহ! যাহা কিছু এলম আমাকে দান করিয়াছ তা দ্বারা আমাকে ভাল পথে চালিত কর এবং সেই এলম আমাকে দান কর যা–দ্বারা আমি ভাল হইতে পারি।
৬৬) আয় আল্লাহ! গায়েবের খবর তুমিই জান এবং তোমার ক্ষমতা চলে সমস্ত সৃষ্ট জগতের উপর; আমি তোমার নিকট চাই যে, আমাকে সেই সময় পর্যন্ত জীবিত রাখ যে পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য ভাল এবং আমাকে সেই সময় মৃত্যু দান কর যে সময় আমার জন্য মৃত্যু ভাল এবং আমি তোমার নিকট চাই যে, সাক্ষাতে অসাক্ষাতে তথা প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বাবস্থায় যেন তোমার ভয় আমার মনে থাকে এবং সুখে দুঃখে শান্তিতে অশান্তিতে সব সময় যেন তোমার খাঁটি ভক্ত হইয়া তোমার সঙ্গে ওয়াদা খাঁটি রাখিয়া চলিতে পারি এবং তোমার নিকট চিরস্থায়ী অফুরন্ত নেয়ামত এবং এমন চক্ষু জুড়ান মনোমুগ্ধকর মনের শান্তি চাই যাহা কখনও ছুটিবার নয় এবং চাই যে, তোমার তরফ হইতে যে কোন হুকুম আসে তাহাতে যেন আন্তরিকভাবে সন্তুষ্ট থাকি এবং মনের মত যেন সুখের জীবন যাপন করিতে পারি। মৃত্যুর পর এবং তোমার দীদারের পরমানন্দ যেন উপভোগ করিতে পারি এবং সবর্দা যেন তোমার দীদারের অন্বেষণে ব্যস্ত থাকিতে পারি। আমি তোমার নিকট পানাহ চাই এমন রোগ হইতে যাহা স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক এবং এমন দুষ্টামী পাগলামী হইতে যাহা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। আয় আল্লাহ! সদা আমাদিগকে ঈমানের সাথে রাখ এবং আমাদিগকে এমন হাদী বানাইও যাহারা নিজেরাও হেদায়তের উপর থাকে।
৬৭) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সর্বপ্রকার ভাল চাই, যাহা দুনিয়াতেও ভাল আখেরাতেও ভাল আমি বুঝি বা না–ই বুঝি।
৬৮) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই সেই সকল ভাল জিনিস যাহা তোমার প্রিয় বান্দা ও পয়গাম্বরগণ চাহিয়াছিলেন।
৬৯) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বেহেশত চাই এবং যে সব কথা ও কাজের দ্বারা বেহেশত পাওয়া যায় সেই সকল কথা ও কাজের তওফিক চাই এবং ইহাও চাই যে, যাহা কিছু তুমি আমার জন্য নির্ধারিত করিয়াছ তাহা যেন আমার জন্য উত্তম ফলদায়ক হয় এবং আমি তোমার নিকট এই চাই যে, তুমি আমার জন্য যাহা কিছু নির্ধারিত কর তাহার পরিনাম যেন আমার জন্য ভালই হয়।
৭০) আয় আল্লাহ! সব কাজে আমাদের পরিনাম ফল ভাল করিয়া দাও এবং দুনিয়ার অপমান ও আখেরাতের আযাব হইতে রক্ষা করিও।
৭১) আয় আল্লাহ! আমার ঈমান ও ইসলামকে হেফাযত কর বসিতে এবং আমার ঈমান ও ইসলামকে হেফাযত কর শয়নে এবং আমি এমন কোন দুরাবস্থার যেন পতিত না হই যাহাতে শত্রু ও হিংসুকেরা আমাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করার সুযোগ পায়।
৭২) আয় আল্লাহ! যত রকম ভাল জিনিসের ভান্ডার তোমার নিকট আছে ঐ সকল ভান্ডার আমি তোমার নিকট চাই এবং সকল প্রকার ভাল তোমারই হাতে; তোমার নিকট আমি সব ভাল চাই।
৭৩) আয় আল্লাহ! আমার যত গুনাহ্ আছে সব মাফ করিয়া দাও এবং যত চিন্তা ভাবনা আছে সব দুর করিয়া দাও এবং যত ঋণ আছে সব পরিশোধ করিয়া দাও এবং যত অভাব অভিযোগ আছে– দুনিয়া ও আখেরাতে সব পূরন করিয়া দাও, ওগো সর্বাপেক্ষা অধিক দয়ালু।
৭৪) আয় আল্লাহ! আমায় সহায়তা কর তোমার যিকির করিতে, তোমার শুকর করিতে এবং তোমার এবাদত উত্তমরূপে আদায় করিতে।
৭৫) আয় আল্লাহ! তুমি আমাকে যাহা কিছু দিয়াছ তাহাতে বরকত দান কর এবং আমাকে তাহাতে তৃপ্তি দান কর এবং আমার অসাক্ষাতে আমার যাহা কিছু আছে আমার পরিবর্তে তুমিই তাহা ভালরূপে হেফাযত কর।
৭৬) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই দুঃখ–কষ্ট ও পাপহীন পরিষ্কার জিন্দেগী এবং উত্তম মৃত্যু বা খাতেমাহ বিল–খায়ের এবং লজ্জা ও অপমান শূণ্য প্রত্যাবর্তন।
৭৭) আয় আল্লাহ! আমি দূর্বল সুতরাং তুমি আমাকে তোমার সন্তোষ আকর্ষনের কাজে সবল কর এবং নেক কাজের দিকে আমাকে টানিয়া লও– আমার চুল ধরিয়া এবং ইসলামের রীতিনীতি হুকুম আহকামই যেন আমার পছন্দের একমাত্র জিনিষ হয়। আয় আল্লাহ! আমি সম্মানহীন, তুমি আমাকে সম্মান দান কর। আয় আল্লাহ! আমি দরিদ্র তুমি আমাকে রিযিক দান কর।
৭৮) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ভাল জিনিষ চাই এবং ভাল জিনিষের জন্য দু’আ করি এবং ভাল কাজ যেন করিতে পারি এবং ভাল সওয়াব যেন পাই। ভালরূপে যেন জীবন যাপন করিতে পারি এবং ভাল মৃত্যু যেন হয়। আয় আল্লাহ! দ্বীনের উপর আমাকে স্থির পদ রাখ এবং আমার নেকীর পাল্লা ভারী করিয়া দিও এবং আমার ঈমান খাটি করিয়া ধাও এবং উচ্চ করিয়া দাও আমার মর্তবা এবং আমার নামায (তথা শারীরিক সমস্ত এবাদত) কবুল করিয়া লও এবং আমি তোমার নিকট স্থান ও জায়গা চাই বেহেশতের উপরের দরজায়। আয় আল্লাহ! আমার দু’আ কবুল কর। আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি যে, আমার সব কাজগুলো যেন প্রাথমিক সূচনায় ও ভাল হয়, সর্বশেষ ফলাফলও ভাল হয়, (ইহকাল, পরকাল) সর্বদিক দিয়াই যেন ভাল হয় এবং আরম্ভে ভাল হয় শেষেও ভাল হয়, বাহিরেও ভাল হয় ভিতরেও ভাল হয়। আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই যে, আমি যত কাজ করি বা আমার দ্বারা যত কাজ হয় বা আমি যে কাজে যাই তাহা যেন ভিতরে বাহিরে সর্বদিকে ভালই হয়।
৭৯) আয় আল্লাহ! দান করিও আমাকে অধিক রিযিক আমার বৃদ্ধকালে ও শেস বয়সে।
৮০) আয় আল্লাহ! আমার জীবনের শেষ ভাগটিকে বেশী ভাল বানাও এবং খুব ভাল যেন হয় আমার শেষ আমল এবং আমার জন্য যেন সব চেয়ে ভাল দিন হয় তোমার সাথে দিদারের দিন।
৮১) হে ইসলাম ও মুসলমানগণের মালিক! তুমি আমাকে ইসলামের উপর দৃঢ় মজবুতীর সহিত কায়েম রাখ তোমার সাক্ষাতকাল পর্যন্ত।
৮২) আয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি যে, আমি এবং তোমার মোতায়েল্লেকীন আপনজনগণ যেন কখনো অন্যের মুখাপেক্ষী না হই। আয় আল্লাহ! পার্থিব জীবনের যত অপকার আছে সব হইতে আমাকে বাঁচাইয়া রাখ এবং মনের হিংসা (তথা কিনা বোগজ ইত্যাদি) হইতে বাঁচাইয়া রাখ। আয় আল্লাহ! তুমি বিনে কেহ মা’বুদ নাই, তুমি সর্বশক্তিমান; আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমাকে কখনও গোমরাহীর পথে যাইতে দিও না এবং বালা মুছিবতের কষ্টে যেন না পড়ি এবং হতভাগ্যপনা যেন আমাকে পাইতে না পারে এবং আমার ভাগ্য যেন খারাপ না হয়, আমার এমন দুরাবস্থা যেন না হয় যাহাতে শত্রুগণ সন্তুষ্ট হইতে পারে এবং আশ্রয় চাই অনিষ্ট হইতে ঐ সব কার্যের যাহা কিছু জীবনে করিয়াছি এবং অনিষ্ট হইতে ঐ সবের যাহা কিছু জীবনে করিয়াছি এবং অনিষ্ট হইতে ঐ সবের যাহা কিছু করি নাই এবং ঐ সবের অনিষ্ট হইতে যাহা আমার জানা আছে এবং ঐ সবের অনিষ্ট হইতে যাহা আমার জানা নাই এবং আশ্রয় প্রার্থনা করি, ছিনিয়া যাওয়া হইতে তোমার প্রদত্ত নেয়ামত সমূহ এবং নষ্ট হইয়া যাওয়া হইতে এবং তোমার সব রকম গজব হইতে। আয় আল্লাহ! আমাকে বাঁচাইয়া রাখ আমার কানের অহিত অপব্যবহার হইতে, আমার চোখের সহিত অপব্যবহার হইতে, আমার মুখের সহিত অপব্যবহার হইতে, আমার দিলের সহিতও অপব্যবহার হইতে এবং বীর্যের অপব্যবহার হইতে। আয় আল্লাহ! বাঁচাইয়া রাখ আমাকে অনাহারের কষ্ট হইতে এবং অন্যের উপর যুলুম অত্যাচার করা হইতে এবং অন্যের দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া হইতে এবং বাঁচাইয়া রাখিও আমাকে কোন কিছু পড়িয়া চাপা মৃত্যু হইতে এবং শুন্য হইতে পতিত হইয়া মারা যাওয়া হইতে এবং ডুবিয়া মরা হইতে এবং পুড়িয়া মরা হইতে এবং বাঁচাইয়া রাখিও– শয়তান যেন মৃত্যুর সময় আমাকে ঘিরিয়া লইতে না পারে এবং আমাকে বাঁচাইয়া রাখিও– আমি যেন জীবন ভর কখনও জেহাদ হইতে পিছনে না ফিরি এবং সাপের দংশনে যেন আমার মৃত্যু না ঘটে।