Tuesday, June 6, 2017

ভাস্কর্যের নামে মূর্তিপূজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা প্রতিটি মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব

প্রশ্ন
প্রিয় মুহতারাম,
আসসালামুআলাইকুম। বর্তমান সময়ে অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয় হলো আদালত প্রাঙ্গন থেকে মূর্তি অপসারণ। অনেকে বলছে এটি একটি ভাষ্কর্য বৈ কিছু না। ইসলাম আসলে মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিষয়ে কি বলেছে। এ দুটির মধ্যে আদৌ কোন মৌলিক পার্থক্য আছে কি না দয়া করে কুরআন ও হাদিসের দলিল সহকারে জানাবে যাতে করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় আমি দলিল দিয়ে কথা বলতে পারি।
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
মামুন
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ভাস্কর্য শব্দটা এসেছে ভাস্কর থেকে।
ভাস্কর = ভাস (আলো) + কর অর্থাৎ যা আলো দেয় তাকে ভাস্কর বলে। এজন্য সূর্যের সমার্থক শব্দ ভাস্কর। এখানে আলো জ্ঞান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সে হিসেবে- যা জ্ঞান দেয় তাকেই ভাস্কর বলে।
ভাস্কর্য হচ্ছে ঐ জিনিস, যার মাধ্যমে কোন শিল্পী কোন বিমূর্ত ধারনাকে মূর্তিমান করে। অর্থাৎ কোন মূর্তি থাকবে, যাকে দেখে হয়ত কোন ইতিহাস, ঘটনার কথা মনে পড়বে। অর্থাৎ মূর্তিটি কোন নির্দ্দিষ্ট মেসেজ বহন করবে বা জ্ঞান দিবে।
অর্থাৎ
ভাস্কর হচ্ছে, যিনি কোন বিমূর্ত ধারণাকে ইট,কাঠ,পাথর দিয়ে মূর্ত করেন তাকেই ভাস্কর বলে। এবং ভাস্কর্য হচ্ছে ঐ মূর্তি যা কোন নির্দ্দিষ্ট মেসেজ বহন করে।
ভাস্কর্য অর্থটি ভাল করে বুঝে আসে, তাহলে আমাদের ভাস্কর্য ও মূর্তি নিয়ে যে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে সেটি সহজেই নিরসন করা সম্ভব।
আমাদের অন্তরের কোন বাসনা বা চেতনাকে দৃশ্যায়িত করা।
যদি সেই দৃশ্যায়িত করা বস্তুটি প্রাণীর মূর্তির সাদৃশ্য নেয়, তাহলে সেটি ভাস্কর্য হবার সাথে সাথে মূর্তি হয়ে যাবে।
আর যদি প্রাণীর দৃশ্য প্রকাশ না করে তাহলে সেটি ভাস্কর্যই থেকে যাবে। যেমন পতাকার ভাস্কর্য নির্মাণ। গাছ, মিনার, জাতীয় ফল কাঠাল, আম ইত্যাদির ভাস্কর্য।
এসব শুধুই ভাস্কর্য। কিন্তু যখন ভাস্কর্যের চিত্রটি ব্যক্তি বা প্রাণীর ছবি প্রকাশ করে তখন সেটি আর শুধু ভাস্কর্য থাকে না মূর্তিও হয়ে যায়।
তো ইসলাম প্রাণী ছাড়া অন্য কিছুর ভাস্কর্যকে নিষিদ্ধ করে না। তাই পতাকা, কাঠাল, আম ইত্যাদির ভাস্কর্য নির্মাণকে হারাম বলার সুযোগ নেই।
কিন্তু ভাস্কর্য মূর্তির রূপ পরিগ্রহ করে, সেই মূর্তি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলাম এসেছে মূর্তি উৎখাত করার জন্য। মূর্তির মাধ্যমে ঠুনকো হাস্যকর আবেগ প্রকাশ করতো মক্কার মুশরিকরা। সেসব ভাস্কর্যরূপী মূর্তিগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে ভেঙ্গেছেন।
কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদীসে রাসূলে এসব ভাস্কর্যরূপী মূর্তির বিরুদ্ধে এসেছে।
উদাহরণতঃ
বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের ভাস্কর্যের নামে মূর্তি বানানো হচ্ছে। ন্যায়ের প্রতিকের নামে কাল্পনীক গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য মূর্তি  বানানো হচ্ছে।
ঠিক একইভাবে মুশরিকরা পূর্বসূরী আল্লাহর ওলী “ওয়াদ্দ, সুওয়াক, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসর” নামক বনী ইসরাঈলের প্রসিদ্ধ আল্লাহর ওলীদের নামে ভাস্কর্য মূর্তি বানিয়েছিল।
“ওয়াদ্দ, সুওয়াক, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসর” নাম্মী  ভাস্কর্যগুলো কোন কাল্পনিক ব্যক্তি ছিলেন না। তারা সবাই বনী ইসরাঈলের ওলী ছিলেন।
তাদের স্মরণে পরবর্তীতে তাদের নামে ভাস্কর্য তথা মূর্তি নির্মাণ করা হয়।
হাদীসের ভাষ্য দেখুনঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، «صَارَتِ الأَوْثَانُ الَّتِي كَانَتْ فِي قَوْمِ نُوحٍ فِي العَرَبِ بَعْدُ أَمَّا وَدٌّ كَانَتْ لِكَلْبٍ بِدَوْمَةِ الجَنْدَلِ، وَأَمَّا سُوَاعٌ كَانَتْ لِهُذَيْلٍ، وَأَمَّا يَغُوثُ فَكَانَتْ لِمُرَادٍ، ثُمَّ لِبَنِي غُطَيْفٍ بِالْجَوْفِ، عِنْدَ سَبَإٍ، وَأَمَّا يَعُوقُ فَكَانَتْ لِهَمْدَانَ، وَأَمَّا نَسْرٌ فَكَانَتْ لِحِمْيَرَ لِآلِ ذِي الكَلاَعِ، أَسْمَاءُ رِجَالٍ صَالِحِينَ مِنْ قَوْمِ نُوحٍ، فَلَمَّا هَلَكُوا أَوْحَى الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْمِهِمْ، أَنِ انْصِبُوا إِلَى مَجَالِسِهِمُ الَّتِي كَانُوا يَجْلِسُونَ أَنْصَابًا وَسَمُّوهَا بِأَسْمَائِهِمْ، فَفَعَلُوا، فَلَمْ تُعْبَدْ، حَتَّى إِذَا هَلَكَ أُولَئِكَ وَتَنَسَّخَ العِلْمُ عُبِدَتْ
ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে প্রতিমার পূজা নূহ্ (আঃ)-এর কওমের মাঝে চালু ছিল, পরবর্তী সময়ে আরবদের মাঝেও তার পূজা প্রচলিত হয়েছিল। ওয়াদ ‘‘দুমাতুল জান্দাল’’ নামক জায়গার কাল্ব গোত্রের একটি দেবমূর্তি, সূওয়া‘আ, হল, হুযায়ল গোত্রের একটি দেবমূর্তি এবং ইয়াগুছ ছিল মুরাদ গোত্রের, অবশ্য পরবর্তীতে তা গাতীফ গোত্রের হয়ে যায়। এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটবর্তী ‘জাওফ’ নামক স্থান। ইয়া‘উক ছিল হামাদান গোত্রের দেবমূর্তি, নাসর ছিল যুলকালা‘ গোত্রের হিময়ার শাখার মূর্তি। নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেক লোকের নাম নাসর ছিল। তারা মারা গেলেশায়ত্বন তাদের কওমের লোকদের অন্তরে এ কথা ঢেলে দিল যেতারা যেখানে বসে মাজলিস করতসেখানে তোমরা কতিপয় মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সমস্ত পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ কর। কাজেই তারা তাই করলকিন্তু তখনও ঐ সব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা আরম্ভ করে দেয়। (বুখারী, হাদীস নং-৪৯২০, ইফাবা-৪৫৫৫)
উপরোক্ত হাদীস পরিস্কার প্রমাণ করছে যে, মুশরিকরা মূলত তাদের পূর্ববর্তী আল্লাহর ওলীদের স্বরণে তাদের ভাস্কর্য মূর্তি নির্মাণ করেছিল।
ঠিক একই কাজ বর্তমানে ভাস্কর্যপূজারীরা করছে। চেতনা ফেরী করার নামে।
অথচ
পবিত্র কুরআন এসব মূর্তির নামের ভাস্কর্যপূজা নিষিদ্ধ করে আয়াত নাজিল করেঃ
وَ قَالُوْا لَا تَذَرُنَّ اٰلِهَتَكُمْ وَ لَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّ لَا سُوَاعًا ۙ۬ وَّ لَا یَغُوْثَ وَ یَعُوْقَ وَ نَسْرًاۚ۝۲۳ وَ قَدْ اَضَلُّوْا كَثِیْرًا ۚ
‘আর তারা বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ সুওয়াকে, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।’ -সূরা নূহ : ২৩-২৪।
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِۙ۝۳۰
‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ : ৩০
কুরআন মজীদে মূর্তি ও ভাস্কর্যকে পথভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। এক আয়াতে এসেছে-
رَبِّ اِنَّهُنَّ اَضْلَلْنَ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ ۚ
‘ইয়া রব, এরা (মূর্তি ও ভাস্কর্য) অসংখ্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে!’ -সূরা ইবরাহীম : ৩৬
অন্য আয়াতে এসেছে-
وَ قَالُوْا لَا تَذَرُنَّ اٰلِهَتَكُمْ وَ لَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّ لَا سُوَاعًا ۙ۬ وَّ لَا یَغُوْثَ وَ یَعُوْقَ وَ نَسْرًاۚ۝۲۳ وَ قَدْ اَضَلُّوْا كَثِیْرًا ۚ۬
‘আর তারা বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ সুওয়াকে, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।’ -সূরা নূহ : ২৩-২৪
اِنَّمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا وَّ تَخْلُقُوْنَ اِفْكًا ؕ
তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা কর (অসার) মূর্তির এবং তোমরা নির্মাণ কর ‘মিথ্যা’। -সূরা আনকাবুত : ১৭
এভাবে অসংখ্য আয়াতে উপরোক্ত ভাস্কর্য নামের মূর্তির নিষিদ্ধের কথা এসেছে।
আরো জানতে হলে পড়ুন-
১ 

ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিধান

মূর্তি ও ভাস্কর্য : পশ্চাৎপদতা ও ইসলাম বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার মূর্তিমান প্রতিভূ


যে ভাস্কর মূর্তির সাদৃশ্য ধারণ করে, তা অবশ্যই মূর্তি। নাম যা’ই রাখা হোক তা মূর্তি। মূর্তির স্থান মন্দিরে। মুসলমানদের চলাচলের রাস্তায় নয়। দর্শণীয় স্থানে নয়।
মসজিদের শহরকে ভাস্কর্যের নামে মূর্তির শহরে পরিণত করার পৌত্তলিক মনোবৃত্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবী।
এই মূর্তির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন বলেই আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেশান্তরিত হতে হয়েছে। রাস্তায় মার খেতে হয়েছে। রক্তাক্ত হতে হয়েছে।
নবীজীর সত্যিকার উম্মতীরা নবীজীর সেই রক্তে রাঙ্গা পথে হেটে হলেও স্বীয় মাতৃভূমিকে মূর্তি মুক্ত করার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে এটাই ঈমানের দাবী।
তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত, তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা মেহনতের মাধ্যমে এ মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের মূর্তিমুক্ত শান্তির দেশ গড়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।
ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

সিনেমার নায়িকা তওবা করলে তার পূর্বের কৃত সিনেমা দেখে মানুষ পাপ করলে সে গোনাহগার হবে কী?

আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের এক দ্বীনী বোন যার নাম নাজনীন আক্তার হ্যাপী। তিনি এক সময় সিনেমা জগতে কাজ করতেন। কয়েকটি আইটেম গানসহ বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন। সেই সাথে দু’একটি সিনেমায়ও কাজ করেছেন। যেসবে তিনি আপত্তিকর দৃশ্যে অভিনয় করেছেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তওবা করেছেন। একটি মহিলা মাদরাসায় পড়াশোনা করছেন। পর্দা মেনে চলছেন। পুরাপুরি দ্বীন মানার চেষ্টা করছেন। পূর্বের গোনাহের কারণে তিনি আল্লাহর কাছে খাস দিলে তওবাও করেছেন। আগের পাপের জন্য তিনি অনেক অনুতপ্ত।
কিন্তু তার অভিনয় করা সিনেমা ইদানিং মুক্তি পাচ্ছে। তিনি চেষ্টা করেও এ সিনেমা বন্ধ করতে পারছেন না।
যা আমরা তার ফেইসবুক পেইজের পোষ্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
এখন আমার প্রশ্ন হল, এমন কোন গোনাহ যদি হয়, যা ব্যক্তি প্রথমে চালু করেছে। এখন তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। চলতেই থাকবে। মানুষ অবিরত এসবের মাধ্যমে গোনাহ করতেই থাকবে। এখন উক্ত ব্যক্তি তা থেকে তওবা করলেই কি পাপমুক্ত হয়ে যাবে?
আমি শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি কোন গোনাহের পথ দেখালে, যত মানুষ পরবর্তীতে গোনাহ করবে, এর একটি ভাগ প্রথম ব্যক্তি পেতে থাকবে। যদি তা’ই হয়, তাহলে ভুক্তভোগী, অনুতপ্ত ব্যক্তি এখন কী করতে পারে? তার কি ক্ষমা পাবার কোন পথ নেই?
প্রশ্নকর্তা-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হযরত জারীর বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، كُتِبَ عَلَيْهِ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ
যে ব্যক্তি ইসলামে কোন ভাল রীতির প্রচলন করবে এবং পরবর্তীকালে সে অনুযায়ী আমল করা হয় তাহলে আমলকারীর সাওয়াবের সমপরিমাণ সাওয়াব তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হবে। এতে তাদের সাওয়াবের কোন রূপ ঘাটতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন কুরীতির (মন্দ কাজের) প্রচলন করবে এবং তারপরে সে অনুযায়ী আমল করা হয় তাহলে ঐ আমলকারীর মন্দ ফলের সমপরিমাণ গুনাহ তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হবে। এতে তাদের গুনাহ কিছুমাত্র হ্রাস হবে না।[সহীহ মুসলি, হাদীস নং-৬৭৪১, ইফা, হাদীস নং-৬৫৫৬]
উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, মন্দ কাজের প্রচলন করা খুবই ভয়ানক বিষয়। তা’ই এমন ভয়াবহ কাজ থেকে সকলের বিরত থাকা আবশ্যক।
বাকি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন মহান ও দয়ালু যে, কোন ব্যক্তি ভয়ংকর পাপ করার পরও যদি খাস দিলে তওবা করেন, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেন। আর উক্ত ব্যক্তি এমন নিষ্পাপ হয়ে যায় যে, যেন সে উক্ত গোনাহ করেইনি।
তবে সাধ্যানুপাতে চেষ্টা করতে হবে যেন, উক্ত পাপ কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। তাই উক্ত দ্বীনী বোনের উচিত যথাসাধ্য উক্ত পাপ কর্মগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা। এরপরও যদি বন্ধ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তার কোন গোনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ [٦٤:١٦]
অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর। [সূরা তাগাবুন-১৬]
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ [٢:٢٨٦]
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। [সূরা বাকারা-২৮৬]
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ [٢٠:٨٢]
আর যে তওবা করে,ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে,আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [সূরা ত্বহা-৮২]
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١]
মুমিনগণ,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা নূর-৩১]
হযরত উবাদা বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
গোনাহ থেকে তওবাকারী এমন, যেন সে গোনাহ করেইনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০]

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস একথাই প্রমাণ করে যে, খালেস দিলে তওবা করলে এবং এ গোনাহ না করার প্রতি সতর্ক করার পরও পূর্বের কৃত কর্ম দ্বারা উদ্ধুদ্ধ হয়ে কেউ পাপ করলেও ব্যক্তি পাপী হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।
ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com